

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে 'প্রথম সুপারস্টার' রাজেশ খান্না যেমন তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার জন্য খ্যাত ছিলেন, তেমনই ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও তিনি ছিলেন এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের নাম।
দীর্ঘ চার দশকের অভিনয়জীবনে ৩০০টিরও বেশি সিনেমায় কাজ করা প্রবীণ অভিনেতা তেজ সাপ্রু সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই কিংবদন্তি তারকাকে নিয়ে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।
সাপ্রুর মতে, রাজেশ খান্না একদিকে যেমন অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন, অন্যদিকে তার মধ্যে কিছুটা অহংকারও বিরাজ করত- যা একজন তারকার ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকার সময় খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল কাশ্মীরে এক সিনেমার শুটিং সেটে। তেজ সপ্রুর বাবা ডি. কে. সাপ্রুর প্রথম সিনেমাটি ছিল রাজেশ খান্নার সাথেই, ফলে সাপ্রু বরাবরই প্রবীণ এই তারকাকে ভীষণ সম্মান করতেন।
কিন্তু একদিন সেটে হঠাৎ করেই পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজেশ খান্না তাকে গালিগালাজ করে বসেন। প্রিয় ও জ্যেষ্ঠ একজন অভিনেতার কাছ থেকে বিনা কারণে এমন অপমান পেয়ে সাপ্রু মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত হন। ক্ষোভ ও অভিমানে পরের দিন শুটিং সেটে তিনি ইচ্ছে করেই রাজেশ খান্নাকে কোনো অভিবাদন জানাননি।
তবে রাজেশ খান্না নিজের ভুল বুঝতে খুব বেশি সময় নেননি। শট শেষ হওয়ার পর তিনি নিজেই সাপ্রুর দিকে এগিয়ে আসেন এবং স্নেহভরে অতীতের কথা ভুলে যেতে বলেন।
সাপ্রু তার কষ্টের কথা জানালে রাজেশ খান্না সরাসরি বিষয়টি মিটিয়ে নেন এবং সন্ধ্যায় তাকে নিজের হোটেলে আড্ডার আমন্ত্রণ জানান। সে রাতে দুজনে একসাথে দীর্ঘ সময় কাটান এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্কের সব বরফ গলে যায়।
পরবর্তীকালে রাজেশ খান্নার ক্যারিয়ারে যখন ভাটা পড়েছিল, তখনও তেজ সাপ্রু তার সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। রাজেশ খান্নার অফিসে তিনি নিয়মিত দেখা করতে যেতেন এবং তার প্রিয় 'রেড লেবেল' উইস্কির বোতল উপহার নিয়ে যেতেন।
সাপ্রু মনে করেন, ধর্মেন্দ্র বা জিতেন্দ্রর মতো সমসাময়িকদের তুলনায় রাজেশ খান্নার এই অহংকারী মনোভাবই হয়তো তার ক্যারিয়ারের দ্রুত পতনের অন্যতম কারণ ছিল।
তবে তা সত্ত্বেও, রাজেশ খান্না নিজের সময়ে যে অভূতপূর্ব স্টারডম ও ভক্তদের ভালোবাসা উপভোগ করেছেন, ভারতীয় সিনেমায় তার কোনো দ্বিতীয় তুলনা নেই।