

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলা নাটক 'সম্পর্ক' শুধু একটি পারিবারিক গল্প নয়, এটি বাবা ও মেয়ের অদৃশ্য অথচ অটুট বন্ধনের এক গভীর আবেগময় উপস্থাপনা। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মিমি, যে ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের কাছেই বড় হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর বাবার থেকে দূরে থাকায় তার বিশ্বাস জন্মায়, তার জীবনে বাবার কোনো অস্তিত্ব বা অবদান নেই।
কিন্তু নাটকটি যত এগোতে থাকে, ততই উন্মোচিত হয় এমন কিছু সত্য, যা দর্শককে নীরবে ভাবিয়ে তোলে। যে মানুষটিকে মিমি সারাজীবন ভুল বুঝেছে, সেই বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ আর নীরব অপেক্ষা ধীরে ধীরে সামনে আসে। তখন উপলব্ধি হয়, সব সম্পর্ক শব্দে প্রকাশ পায় না; কিছু সম্পর্ক দূরত্বের আড়ালেও সমান গভীর থাকে।
একদিন তীব্র অভিমান নিয়ে মিমি তার বাবার বাড়িতে যায়। সে জানায়, বাবার করা ২০ বছর আগের ইনস্যুরেন্সের টাকা সে ফিরিয়ে দেবে। মিমির স্পষ্ট কথা, যে বাবা কোনোদিন দায়িত্ব নেননি, তার টাকাও সে নেবে না।
কিন্তু এই তীব্র মান–অভিমানের মধ্যেই গল্পে আসে এক ভিন্ন মোড়। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এক বৃদ্ধ ভুল করে তাদের বাড়িতে ঢুকে পড়েন, নিজের ছেলের বাড়ি ভেবে। পড়ে বৃদ্ধের অসংলগ্ন অথচ গভীর কথাগুলো ধীরে ধীরে মিমির মনকে নাড়া দিতে শুরু করে।
তিনি যেন সমাজের সেই না বলা সত্যটিই তুলে ধরেন- সন্তানের জীবনে মায়ের ত্যাগ সহজেই চোখে পড়ে, কিন্তু বাবার নীরব সংগ্রাম, অপেক্ষা, ভালোবাসা আর না-পাওয়ার কষ্ট অধিকাংশ সময়ই অদৃশ্য থেকে যায়।
এই উপলব্ধিই মিমির বহু বছরের অভিমান ভেঙে দেয়। সে বুঝতে পারে, বাবা হয়তো তার পাশে থাকতে পারেননি, কিন্তু কোনোদিনই তাকে ভুলে যাননি। মিমি বুঝতে পারে- সন্তানের জন্য মায়ের ত্যাগ সবাই দেখতে পায়, কিন্তু বাবার নীরব লড়াই, কান্না আর অপেক্ষা অনেকেই দেখে না। মিমি বুঝতে পারে, বাবা হয়তো পাশে থাকতে পারেননি, কিন্তু তাকে কখনো ভুলে যাননি। নাটকের শেষে বাবাকে জড়িয়ে ধরে মিমির কান্না মূলত বহু বছরের ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল ভেঙে দেয়। নাটকটির চমৎকার সংলাপ, সাবলীল অভিনয় এবং বাস্তবসম্মত উপস্থাপনান সহজেই দর্শকের নজর কাড়ে। কোনো অতিরিক্ত নাটকীয়তা ছাড়াই খুব সাধারণ একটি গল্পের মাধ্যমে সম্পর্কের টানাপোড়েন সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে, বৃদ্ধের চরিত্রটি দর্শকের চিন্তাভাবনাকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
নাটকটি দেখে দর্শকরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। অনেকেই কমেন্ট করেছেন যে, নাটকটি দেখার সময় তারা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। কেউ কেউ নিজেদের প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করেছেন, আবার কেউ জানিয়েছেন নাটকটি দেখে বাবাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে।
দর্শকদের এসব প্রতিক্রিয়া বলে দেয়, ‘সম্পর্ক’ শুধু একটি নাটক নয়; এটি এমন একটি গল্প, যা অসংখ্য মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অনুভূতি, অনুশোচনা এবং ভালোবাসার সঙ্গে মিশে গেছে।
‘সম্পর্ক’ নাটকটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়-সব ভালোবাসা প্রকাশ পায় না। জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্কগুলোকে কখনো একপাক্ষিক গল্প শুনে বিচার করা উচিত নয়। এই নাটক আমাদের শেখায়, রক্তের সম্পর্ক যতই দূরে থাকুক, সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো হারিয়ে যায় না।
সম্পর্ক নাটকটি পরিচালনা করেছেন ইসমে আজম স্বপন ও প্রযোজনা করেছেন আকবর হায়দার মুন্না। নাটকটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।