শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাত পোহালেই রাকসুর ভোট: হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:১০ পিএম
রাকসু নির্বাচনে শীর্ষ ৩ পদে হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ছবি: কোলাজ
expand
রাকসু নির্বাচনে শীর্ষ ৩ পদে হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ছবি: কোলাজ

মোট প্রার্থী: ২৪৭ জন, ভোটার সংখ্যা: ২৮,৯০১, নারী ভোটার: ১১,৩০৫, পুরুষ ভোটার: ১৭,৫৯৬, বুথ সংখ্যা: ৯৯০টি, এক শিক্ষার্থী দেবেন ৪৩টি ভোট

৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। দীর্ঘ বিরতির পর এ ভোটে ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা। শীর্ষ তিন পদ—সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ–সাধারণ সম্পাদক (এজিএস)—পদে হবে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

কাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট শেষেই কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ফল ঘোষণা করা হবে।

ভিপি পদে সম্ভাব্য লড়াই

ভিপি পদে সবচেয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে শিবির–সমর্থিত মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও ছাত্রদল–সমর্থিত শেখ নূর উদ্দীন আবীরের মধ্যে। বামপন্থী প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল ও ছাত্র অধিকার প্যানেলের মেহেদী মারুফও আলোচনায় রয়েছেন, ফলে এ পদে ফল নির্ধারণ কঠিন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

জিএস পদে ঘনিষ্ঠ প্রতিযোগিতা

জিএস পদে শিবির–সমর্থিত ফাহিম রেজা, সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দীন আম্মার এবং ছাত্রদলের নাফিউল ইসলাম জীবনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি প্রার্থী নিজস্ব প্রচারণা ও সংগঠন শক্তি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

এজিএস পদেও উত্তাপ

এজিএস পদে ছাত্রদলের জাহীন বিশ্বাস এষা ও শিবিরের সালমান সাব্বিরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। শীর্ষ তিন পদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

প্রার্থী ও ভোটের চিত্র

রাকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ ও এজিএস পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ১১টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে নির্বাচনে। সিনেটের পাঁচটি পদে প্রার্থী ৫৮ জন এবং ১৭টি হলে হল সংসদের ১৫টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৯৭ জন প্রার্থী।

মোট ভোটার ২৮,৯০১ জন—যার মধ্যে নারী ১১,৩০৫ ও পুরুষ ১৭,৫৯৬। প্রতিটি শিক্ষার্থী ভোট দেবেন ৪৩টি পদে—রাকসুতে ২৩টি, সিনেটে ৫টি এবং হল সংসদে ১৫টি।

ক্যাম্পাসজুড়ে প্রস্তুতি

ক্যাম্পাসে ৯৯০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে, প্রতিটি বুথে থাকবে সিসি ক্যামেরা ও স্ক্যানিং মেশিন। শহীদ হোসেন সিরাজী একাডেমিক ভবন, জুবেরী ভবন, রবীন্দ্র ভবনসহ অন্যান্য একাডেমিক ভবনে বুথ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

শিক্ষার্থী নাসিমুল মুহিত ইফাত বলেন, “দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নির্বাচন হচ্ছে—এটা আমাদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। শিবির ও ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরাই সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে আছে।”

ছাত্রী ফারিহা ইসলাম মিম বলেন, “ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার। মূল প্রতিযোগিতা দুই বড় প্যানেলের মধ্যে হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও গুরুত্ব পাচ্ছেন।”

গণযোগাযোগ বিভাগের পাপিয়া আক্তার বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে শিক্ষার্থীদের সমস্যা তুলে ধরছেন, তাই তারা ভিন্নধারার বিকল্প হিসেবে উঠে আসছেন।”

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. এফ. নজরুল ইসলাম জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শেষেই গণনা করে একই দিনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নিয়েছি। দীর্ঘ বিরতির পর এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্ব বিকাশে নতুন সুযোগ এনে দেবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “গণমাধ্যম, প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত হলেই এই নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন