

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী তার নামসহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠিয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এবার জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য মুখকে সামনে আনার কৌশল নিয়েছে দলটি। সে কারণেই তরুণ নেতৃত্ব ও জনসমর্থন—এই দুই দিক বিবেচনায় সাদিক কায়েমের নাম প্রাধান্য পেয়েছে। একইসঙ্গে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
জানা গেছে, সাদিক কায়েম বর্তমানে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক। তার পারিবারিক শিকড় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসবাস খাগড়াছড়িতে। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা এবং ডাকসু নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পান। ক্যাম্পাসের বাইরেও তার জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
দলীয় নেতারা বলছেন, তারুণ্য, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নগর রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে চায় জামায়াত। প্রস্তাবিত তালিকায় তার নাম উপরের দিকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই আসবে।
মহানগর জামায়াতের এক শীর্ষ নেতা জানান, একজন জনপ্রিয় তরুণ নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, যিনি ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাকে চূড়ান্তভাবে প্রার্থী করা হবে কিনা, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে এবং নির্বাচনী ফলাফল উন্নত করতে এবার ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। অতীতে পেশাজীবী প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও এবার জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ের সমর্থনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রে পাঠানো তালিকায় আরও কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী, শফিউল আলম এবং সাবেক ছাত্রনেতা আ ম ম মাসরুর। এদের মধ্যে কয়েকজন পূর্বে কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম জানান, জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা চসিক নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি একজন তরুণ ও জনপ্রিয় মুখও বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ইতোমধ্যে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কারও নাম এ মুহূর্তে নিশ্চিত করা হয়নি। কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের তালিকা স্থানীয়ভাবেই চূড়ান্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার ৪১টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি নারী কাউন্সিলর পদেও অংশ নেওয়া হবে। ঈদের পর নির্বাচন হলে তারা সাংগঠনিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে বলে দাবি করেছেন নেতারা।
এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণেও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি প্যানেল নির্ধারণ করে ভোট নেয়া হয়েছে সদস্যদের। সেই প্যানেলে সাদিক কায়েমের নাম ছিল।
মন্তব্য করুন
