

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা, প্রার্থীদের গণসংযোগ এবং ভোটারদের আগ্রহে স্পষ্ট-এবারের লড়াই হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। স্থানীয়দের মতে, জয়–পরাজয়ের ব্যবধান হতে পারে খুবই সূক্ষ্ম; শেষ মুহূর্তের কৌশলই নির্ধারণ করবে ফলাফল।
গ্রাম থেকে বাজার, চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- সবখানেই এখন নির্বাচনই প্রধান আলোচ্য বিষয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সভা–সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও ঘরোয়া মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রার্থীরা পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনশৃঙ্খলা- এসব ইস্যুকেই গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান ভোটাররা। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও এলাকায় সম্পৃক্ততাও বড় বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত নাজমুল মোস্তফা আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী (হাতপাখা)। তিনজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৭ জন। ২০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে বিস্তৃত এই আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৭টি। তরুণ ও প্রথমবারের ভোটাররা এবার বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্রচারণা, ভিডিও বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে প্রার্থীরা তরুণদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
বিএনপি প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই তাকে এগিয়ে রাখছে। শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হলে জনগণই সঠিক সিদ্ধান্ত দেবে। তরুণ ভোটারদের সাড়া তাকে অনুপ্রাণিত করছে এবং জনগণের রায়েই দাঁড়িপাল্লার বিজয় আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
প্রসঙ্গত, শাহজাহান চৌধুরী এ আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দু’দফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মরহুম মোস্তাক আহামদ চৌধুরী এবং সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে কর্নেল অলি আহামদ (বীরবিক্রম) এই আসনে জয়লাভ করেন। ফলে ঐতিহাসিকভাবেই আসনটি বিএনপি ও জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। , সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম–১৫ আসনে এবার জমেছে তুমুল প্রতিযোগিতা। বিএনপি ও জামায়াত-উভয় শিবিরই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। এখন নজর ভোটের দিনের দিকে-কার কৌশল শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মন জয় করে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
মন্তব্য করুন
