

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোট। তবে দেশের গ্রামাঞ্চলের বড় একটি অংশের ভোটার এখনো জানেন না-গণভোট কী, কিংবা কেন ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে হবে।
সরকারি পর্যায়ে গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রচার কার্যক্রম চলার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে ভোটারদের আগ্রহ থাকলেও গণভোট নিয়ে তাদের মধ্যে স্পষ্ট কোনো ধারণা তৈরি হয়নি। অনেকেই জানেন সংসদ নির্বাচনের দিন ভোট দিতে যাবেন, কিন্তু একই দিনে আলাদা একটি ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে নতুন তথ্য।
সুনামগঞ্জের গ্রামগুলোতে গণভোট প্রায় অচেনা
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনের বিভিন্ন গ্রামের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশই গণভোট সম্পর্কে কিছুই জানেন না। চরমহল্লা ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, “হ্যাঁ দেব নাকি না দেব—এই প্রশ্নই বুঝি না। কেন ভোট দিতে হবে, সেটাও কেউ বলেনি। চোখে পড়ার মতো কোনো প্রচারও দেখিনি।”
একই উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রভাষক জানান, গণভোট নিয়ে দৃশ্যমান প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়নি।
প্রশাসনের দাবি, প্রচার চলছে
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা জানান, সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার এলাকায় ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সভায় গণভোটের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
দিনাজপুরের খানসামাতেও একই চিত্র
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও গণভোট নিয়ে তেমন কোনো কার্যকর প্রচার চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচার চালানোর দাবি থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ—এই প্রচার মূলত উপজেলা সদর কিংবা হাট-বাজারকেন্দ্রিক।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটের দিন সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি আলাদা গণভোটের ব্যালট পাওয়ার বিষয়টি না জানলে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন।
আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের এক চা বিক্রেতা এন্তাজুল বলেন, “এমপি নির্বাচনের কথা সবাই বলে, কিন্তু গণভোট কী-এই বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি।”
পাকেরহাট এলাকার অটোচালক ওমর ফারুক এবং স্কুল শিক্ষিকা লিলি আক্তারও জানান, গণভোট সম্পর্কে গ্রামের মানুষের পরিষ্কার ধারণা নেই।
লিফলেট বিতরণের তথ্য প্রশাসনের
খানসামা উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার জানান, গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১২ হাজার লিফলেট নিজস্ব অর্থায়নে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাওয়া আরও প্রায় ১৫ হাজার লিফলেট ইউনিয়ন উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভোটারদের সিদ্ধান্ত স্বাধীন-জেলা প্রশাসক
দোয়ারাবাজারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-কোনটি দেবেন, তা সম্পূর্ণ ভোটারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চাপ বা নির্দেশনা নেই।”
তিনি বলেন, ভোট দেওয়া নাগরিকের অধিকার। কেউ ‘না’কে সঠিক মনে করলে সেখানে ভোট দেবেন, আবার কেউ ‘হ্যাঁ’কে উপযুক্ত মনে করলে সেটিই বেছে নেবেন। প্রশাসনের লক্ষ্য হলো- ভোটার যেন না জেনে ভোট দিয়েছেন, এমন অভিযোগ করতে না পারেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সেনা, পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন

