

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


‘আমরা আমাদের প্রার্থীকে (মাওলানা লোকমান আহমদ) নিয়ে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু প্রার্থী পরিবর্তন করায় আমরা হতাশ। নির্বাচন থেকে বিদায়– সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁওয়ের বাসিন্দা জামায়াতের কর্মী সায়েমুল আরেফিনের এমন মন্তব্য এটি।
আসনটি জামায়াতের শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁর ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দেন তিনি। শুধু আরেফিন নন, দেশ-বিদেশের অনেক নেতাকর্মী তাদের সম্ভাবনাময় আসনে প্রার্থী বদল করায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।
এমনকি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন সিলেট-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ যাতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করেন সে জন্য তাঁকে দক্ষিণ সুরমার বাড়িতে আটকে রাখেন স্থানীয়রা।
সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত ৩টিতে দলীয় প্রার্থী পেয়েছে। অপর তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে খেলাফত মজলিস ও একটি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেয় জামায়ত। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা ওইসব আসন জামায়াত প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে শরিক দলকে ছেড়ে দিলে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন নেতাকর্মীরা।
ওই তিনটি আসনের মধ্যে সিলেট-৩ ও সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনকে সম্ভাবনা দেখে আসছিলেন তারা। বিশেষ করে সিলেট-৩ আসনটি বেশি সম্ভাবনাময় ছিল। সেখানে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদকে জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছিল। এলাকার জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে তাঁর পক্ষে নেতাকর্মীরা মাঠে কাজ শুরু করেন।
বিশেষ করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামায়াতের সাইফুল্লাহ আল হোসাইন সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। শেষ মুহূর্তে লোকমানকে পরিবর্তন করে শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুকে দেওয়া হয়। তিনি সিলেটের প্রখ্যাত আলেম প্রয়াত মাওলানা নুর উদ্দিন গহরপুরীর ছেলে।
দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের একাধিক নেতা জানান, প্রার্থী বদল করায় অনেক কর্মী হতাশ। তবে জোটের স্বার্থে তারা কাজ করছেন।
সম্ভাবনাময় আরেকটি আসন সিলেট-৫। জামায়াত শুরুতে জেলার নায়েবে আমির হাফিজ আনওয়ার হোসেন খানকে মনোনয়ন দেয়। আসনটিতে ১৯৯১ সালে দলের প্রার্থী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন জয়লাভ করেন। একই আসন থেকে এর আগেইসলামী ঐক্যজোট থেকে মাওলানা ওবায়দুল হক জয়লাভ করেন। আলেম-উলামা অধ্যুষিত আসনটি এবার শেষ মুহূর্তে জামায়াত শরিক দল খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেয়। দলের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসান সেখানে লড়ছেন। আসনটিতে বিএনপি জোট থেকে লড়ছেন জমিয়তের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক।
বিএনপির জোটের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা বিএনপির বরখাস্ত হওয়া সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। বিএনপির বড় একটি অংশ রয়েছে তাঁর পক্ষে। বিএনপি জোট ও জোটের বাইরে প্রার্থী থাকার সুযোগে আসনটি জামায়াত সম্ভাবনাময় দেখছিল। শেষ মুহূর্তে প্রার্থী বদল হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন নেতাকর্মীরা।
জকিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হোসেন বলেন, দলীয় কর্মীদের মনে কষ্ট থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সব ভুলে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি। আমরা জোটের প্রার্থীর পক্ষেই মাঠে আছি।
শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া অপর আসনটি হচ্ছে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর)। এ আসনটি আগ থেকেই শরিকদের জন্য ছাড়ার গুঞ্জন ছিল। শেষ পর্যন্ত আসনটি খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে ছেড়ে দেয় জামায়াত। সেখানে শুরুতে আব্দুল হান্নানকে মনোনয়ন দিয়েছিল জামায়াত। আসনটিতে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার সঙ্গে লড়ছেন খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী।
মন্তব্য করুন

