

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডাকসুর কার্য নির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা লাঠি হাতে এক দল খেলতে আসা কিশোরদের কানধরে উঠবোস করিয়েছেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে একদল কিশোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছিলেন। তারা নিজেরা কানধরে উঠবোস করছেন। লাঠি হাতে সর্বমিত্র চাকমা তাদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত ৬ জানুয়ারির বলে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে বলা হচ্ছে। এ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বমিত্র চাকমার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।
আবিদুর রহমান নামের একজন ভিডিওটি পোস্ট করে লিখেছেন, ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা প্রক্টরের দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবোস করাচ্ছেন। অপরাধ—বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে।
অথচ বাচ্চারা কোনো অন্যায় করে থাকলে তার বিচারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এটাই শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা। এইটুক ক্ষমতাকে পুঁজি করেই এই অবস্থা করতেছে।
ডাকসুর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী ছিলেন তানভীর বারী হামীম ফেসবুকে লিখেছেন, সর্বমিত্র চাকমা নামক এ আজিব প্রাণীটার আগমন ঢাবিতে হলো কিভাবে…আল্লাহই ভালো জানেন। এ প্রাণীটাকে কোন চিড়িয়াখানায় পাঠানো যায় নাকি মাসায় মারা সাফারি পার্কে পাঠানো উচিত? এ ঘটনায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। রাকিব হোসাইন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শুধু মাঠে খেলতে আসার জন্যে আরেকজনের সন্তান এই ছোট ছোট বাচ্চাদের কান ধরে উঠবস করানোর মানে কী? এদের যে এভাবে পাবলিকলি কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন এটা তাদের বাবা-মা দেখলে তাদের মনের অবস্থা কেমন হবে তা একবার চিন্তা করেন।’
নাজমুস সাদাত নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা যারা সেন্ট্রাল ফিল্ডে যাই, আমরা জানি বহিরাগতদের এখানে কি উৎপাত। সাইডের দেয়াল টপকে তারা আসে, মুহুর্তের মধ্যে ব্যাগ নিয়ে পগারপার হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ড তো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য, পুরো ঢাকার জন্য উন্মুক্ত তো না। অথচ মাঠের কয়েকটা সাইড তারা দখল করে খেলতে থাকে। এদেরকে এর আগেও অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে। এরপরেও এরা দেয়াল টপকে করে চলে আসে।’
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এত কিছুর পরেও এদেরকে যদি শাস্তি স্বরূপ কান ধরে উঠবস করানো হয় সেটা কিভাবে অন্যায়?’
ফারহাজ বিন নুর হোসেন নামে একজন বলেন, ‘গত বছর প্রাকটিসে গিয়ে আমার টিমের ৬টা মোবাইল নিয়ে গেছে মানিব্যাগসহ। কিছুদিন আগে কোন একটা ডিপার্টমেন্টের ব্যাট চুরি করে নিয়ে গেছে। দেওয়াল দিয়ে লাফিয়ে ঢুকে সুযোগ পেলেই মোবাইল মানিব্যাগ নিয়ে যায়। এদেরকে এভাবেই ট্রিট করা উচিত। সর্বমিত্র একদম পারফেক্ট কাজ করছে।’
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য সর্ব মিত্র চাকমার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে এক বৃদ্ধকে লাঠি হাতে তেড়ে গিয়ে সমালোচনায় পড়েছিলেন সর্বমিত্র চাকমা।
মন্তব্য করুন
