

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাম্প্রতিক প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। বোর্ডগুলোর সম্মিলিত গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬২.২৫ শতাংশে, যা ২০০৭ সালের (৫৮.৩৬%) পর সর্বনিম্ন।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭ লাখই (৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন) কৃতকার্য হতে পারেনি। মোট পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সূচক- উভয় ক্ষেত্রেই এক বড় ধরনের ধস নেমেছে।
ফলাফলের এই বড়সড় ধাক্কার মূল অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মানবিক বিভাগ। এ বছর সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী (৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৮৫ জন) ছিল এই বিভাগেই, কিন্তু তাদের পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৪৮.৭৪ শতাংশে।
অর্থাৎ, মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় বসা প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫১ জনেরও বেশি ফেল করেছে। বিপরীতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাসের হার ৮০.৬৪ শতাংশ ধরে রেখে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থান বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৪.২৯ শতাংশে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্তাব্যক্তি ও শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে চরম দুর্বলতাই এই গণফেলের পেছনে প্রধান কারণ।
বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ দুটি মৌলিক বিষয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় তা সার্বিক গড় ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা গণিত ও ইংরেজিতে তুলনামূলক শক্ত ভিত থাকায় ভালো ফল করেছে, কিন্তু মানবিকের ফল পুরোপুরি ধসে পড়েছে।
মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেন নির্দিষ্ট এই বিষয়গুলোতে এতটা পিছিয়ে পড়ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।