

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনায় গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থী বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
তাঁদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, বাকিরা চট্টগ্রামে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন: ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাঈমুল ইসলাম, সমাজতত্ত্ব বিভাগের মো. মামুন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম। তাঁদের মধ্যে নাঈমুলের অবস্থা সবচেয়ে সংকটজনক হওয়ায় তাঁকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে মামুন ও সায়েমের অস্ত্রোপচার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্তত ৭২ ঘণ্টা না গেলে তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মামুনের ক্ষেত্রে মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তক্ষরণ এবং ব্রেইন ইনজুরি হয়েছে। অপারেশনের সময় তাঁর মাথা থেকে একাধিক হাড়ের টুকরো অপসারণ করতে হয়েছে। ব্রেইনের জটিলতা বেড়ে যাওয়ায় তাঁর খুলির কিছু অংশ অস্থায়ীভাবে খুলে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি একটি চিকিৎসা-পদ্ধতির অংশ এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
অন্যদিকে, সায়েমের মাথার মাঝ বরাবর ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয়, যার ফলে অপারেশনের সময় তাঁকে ৭ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর জ্ঞানের মাত্রা এখনও স্বাভাবিক হয়নি এবং লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
ঢাকায় চিকিৎসাধীন নাঈমুলের অবস্থাও সংকটজনক। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয়দের হামলায় তিনি ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হন।
চবি সমাজতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মামুনের মাথায় প্রায় ১৩টি হাড়ের খণ্ড পাওয়া গেছে। তাঁর খুলির অংশ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সুস্থ হলে পরে তা পুনরায় বসানো হবে।
পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার জানান, সায়েমের রক্তচাপ এখনো ওষুধের সহায়তায় স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে, এবং জ্ঞানের মাত্রা উন্নত হয়নি। মামুনের ক্ষেত্রে আংশিক উন্নতি দেখা গেলেও, তিনিও লাইফ সাপোর্টেই রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি জানিয়েছেন, সায়েমের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন, এবং তাঁর উন্নতির জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায়, যেখানে রাতে এক ছাত্রী ভাড়া বাসায় ঢোকার সময় ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে তর্কে জড়ান। পরে বিষয়টি ঘোলাটে হয় এবং স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সাড়া দিতে বিলম্ব হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি এবং মারামারি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বজলুর রহমান জানিয়েছেন, অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কারও কারও অবস্থা গুরুতর। বর্তমানে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে এবং সেনাবাহিনী টহলে রয়েছে।
মন্তব্য করুন