

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ ৩৩ বছর পর সকল জল্পনা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসন্ন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে।
ইতোমধ্যে জাকসু নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচনের সার্বিক দিক তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশন।
তবে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে (ডাকসু) বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের নিরঙ্কুশ জয়ের প্রভাব পরতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জাকসুতে বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থীরাও এ বিষয়ে আশাবাদী। তারা জানান, ডাকসুতে শিবিরের বড় জয় হতে পারে তাদের জয়ের অন্যতম কারণ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করায় আমাদের এত জনপ্রিয়তা। শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করা আমাদের অন্যতম অঙ্গিকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রুবিনা জাহান তিথি বলেন, যদিও ঢাবির সাথে জাবিকে শতভাগ মেলানো বোকামি, তবু কয়েকটা বিষয় উল্লেখ করা দরকার। জাহাঙ্গীরনগরে মেয়েদের ভোট পাওয়ার জন্য সান্ধ্য আইন আসবে, আড্ডা দেওয়া যাবে না, ১০ টার পরে হলে ঢুকলে বাসায় কল যাবে—এই ধরনের শর্তগুলো আসলে কতটা মেয়েদের আকৃষ্ট করছে? বটতলা বা টিএসসির বাইরে অনেক নারী শিক্ষার্থী আছেন, যারা শুধু হল থেকে ডিপার্টমেন্টে আসেন। তাদের ভোট জেতার জন্য দরকার।
মনজুরে মওলা তামিম, আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী, বলেন, ডাকসু নির্বাচনের প্রভাব জাকসুতে পড়বে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা। এখানে শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই তাদের পছন্দের প্রার্থী ঠিক করে রেখেছেন। ডাকসুতে শিবিরের জয়, এজন্য জাকসুতে সবাই শিবিরকে ভোট দেবে—এটা সম্ভব নয়। তবে জাকসুতে শিবিরের পক্ষে-বিপক্ষে ভালো লড়াই হবে ভোটের মাঠে।
জিএস পদপ্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, অনেক প্রার্থীর ইশতেহার বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের ইশতেহারে এমন কিছু নেই। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করতে চাই। শিবির কারও ওপর আদর্শ চাপিয়ে দেয় না। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।
সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ বলেন, দুই সপ্তাহ সময় চলা প্রচারণায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যা খুবই ভালো দিক। শিক্ষার্থীদের থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। তাদের অধিকার আদায়ে সদা অঙ্গীকারবদ্ধ আমাদের প্যানেল। আশা করি ১১ সেপ্টেম্বর ভোটের ব্যালটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবেন।
এদিকে জাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান জানান, মোট ২১টি হলে ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদের ১১টি এবং ছাত্রীদের ১০টি হলে ভোট কেন্দ্র রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ২১টি হলে ২১ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৬৭ জন পোলিং অফিসার এবং ৬৭ জন সহকারী পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি ভোট কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।
জাকসু নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। এজন্য ভোট কেন্দ্র সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে ১২০০ পুলিশ মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীও দায়িত্ব পালন করতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সবসময় প্রস্তুত। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বে থাকবেন। সাদা পোশাকেও তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন।
উল্লেখ্য, জাকসু নির্বাচনে এখন পর্যন্ত মোট ভোটার সংখ্যা ১১,৮৯৭ জন। কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদে প্রায় ৬৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মন্তব্য করুন
