

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর বিতর্কিত তিনটি ছবি ভেঙে ফেলার ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। সংগ্রহশালায় এসব ছবি রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ফাতিমা তাসনিম জুমা লিখেছেন, ‘এই সন্ত্রাসীটা প্রথমে যে ছবিটা ভাঙছে ওইটা একক জিন্নাহর ছবি না। ছবিটা ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় নির্বাচনের একটা পেপার কাটিং। সেই সময়ে ওই নিউজ মিডিয়া জিন্নাহর নামে একটি নিউজ করেছিল। কিন্তু আজ প্রায় ষাট বছর পর দোষটা ডাকসুর হয়ে গেল।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় যে ছবিটার ওপর তাণ্ডব চালাচ্ছে, সেটা ১৯৪০ সালে বাংলার বাঘ একে ফজলুল হকের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সময়ের। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রূপরেখা যেই লাহোর প্রস্তাবের মধ্যেই রচিত ছিল, সেই লাহোর প্রস্তাব এটা। এই ছবিতে শেরে বাংলার সাথে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও দাড়িয়েছিলেন। এ জন্যে লাহোর প্রস্তাবের ছবিটা ভেঙেছে।’
ফাতিমা তাসনিম জুমা আরও বলেন, ‘তৃতীয় ছবিটা ভাঙার সময়ে বলতেসে জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। সেটা থেকে ভাষা আন্দোলনের শুরু। অথচ ছবিটার ক্যাপশনে ঠিক সেই কথাটাই লেখা আছে। কত বড় গণ্ডমূর্খ হইলে এই ছবিকে গ্লোরিফাই বইলা সরানোর কথা বলে আমি জানি না। যাই হোক, এইটা মাত্র শুরু। বিসমিল্লাহ।’
এর আগে ডাকসু সংগ্রহশালায় ফ্রেম ভেঙে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে সাবেক এক শিক্ষার্থী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংগ্রহশালায় গিয়ে ফ্রেম ভেঙে ছবিটি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি।
ছবি ভাঙার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূত্রটা জিন্নাহ তৈরি করে দিয়েছে। কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে বলে যে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে, বাংলা হবে না। আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র প্রতিবাদ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জিন্নাহ সাহেব আপনার এই সিদ্ধান্ত আমরা মানি না।’
তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম ১১ মার্চ ১৯৪৮ শুরু করেছিলেন এবং উনার নেতৃত্বে হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে। সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’

