সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিচার না হলে কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ডাকসুর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগও করা হয়েছে। এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, হলের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সমালোচনা করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিমকে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আটকে রেখে প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুন কর্তৃক শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ শুধু ক্ষমতার অপব্যবহার নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ। কোনো প্রশাসনিক পদই শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা ভিন্নমত দমনের বৈধতা দিতে পারে না। সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীরা যখন প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে তাঁর কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান করছিলেন, তখন কোনো ধরনের জবাবদিহি বা কার্যকর সমাধান নিশ্চিত না করে গভীর রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে শিক্ষার্থী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর মব করে হামলা চালিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রাধ্যক্ষকে বের করে নিয়ে যায়। ছাত্রদলের হামলায় আহত হন ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের ভিপি খন্দকার মোঃ আবু নাঈম, জিএস ইমামুল হাসান সহ প্রায় দশজন প্রতিবাদী শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ধাক্কাধাক্কি এবং হল সংসদের ভিপি-জিএসসহ শিক্ষার্থীদের আহত করে একজন অভিযুক্ত প্রাধ্যক্ষকে ‘গার্ড’ দিয়ে সরিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই ছাত্ররাজনীতির গণতান্ত্রিক চর্চা নয়; বরং এটি প্রকাশ্য গুণ্ডামি, পেশিশক্তির প্রদর্শন, দখলদারিত্ব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের রাজনীতি। বিচারপ্রার্থী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে অভিযুক্তকে রক্ষা করার এই সংস্কৃতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না।

ডাকসুর বিবৃতি অনুযায়ী, কোনো ছাত্রসংগঠনের রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকটে বলপ্রয়োগের বৈধতা দিতে পারে না। প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত না করে রাজনৈতিক পেশিশক্তির মাধ্যমে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া এবং একই সময়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা একই ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির দুই দিক; একদিকে ক্ষমতাবানকে সুরক্ষা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীর কণ্ঠরোধ। হামলায় জড়িত প্রত্যেককে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা, সিদ্ধান্ত ও দায়ও নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ডাকসু বলেছে, এ ঘটনাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগেও শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী, ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো বিচার আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। একইভাবে, কুদরত-ই-খোদা হোস্টেলে গেস্টরুম ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পরও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি। একের পর এক ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচারপ্রক্রিয়ার ভিন্ন মানদণ্ড তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতিই পেশিশক্তি ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

বিবৃতিতে আগের কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ডাকসু অভিযোগ করেছে, এ ঘটনাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগেও শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে শিক্ষার্থী, ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার ঘোষণা দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো বিচার আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। একইভাবে, কুদরত-ই-খোদা হোস্টেলে গেস্টরুম ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পরও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি। একের পর এক ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচারপ্রক্রিয়ার ভিন্ন মানদণ্ড তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত। এই দায়মুক্তির সংস্কৃতিই পেশিশক্তি ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে এবং ক্যাম্পাসে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank