

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্ররা।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে শহরের ইসদাইর এলাকার ‘শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে’ এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানান তাঁরা।
ছাত্রাবাস সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রুমে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও ট্যাব নিয়ে যায়।
একইসঙ্গে শিবির কর্মী থেকে শুরু করে ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন এমনকি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও একই হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ সগির হোসেন বলেন, ‘আজকে ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিকেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করে আমার রুম ভাঙচুর করে এবং মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। আমার ল্যাপটপ, পাশের রুমের এক ভাইয়ের ট্যাব নিয়ে গেছে। এনআইডি কার্ড ও সার্টিফিকেট ইত্যাদি নষ্ট করে ফেলেছে।’
ম্যাথমেটিক্স ডিপার্টমেন্টের শরীফ আবদুল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। কিন্তু আজকে বিকেলে ছাত্রদল নেতা অনিক আমার রুমে ঢুকে আমাকে এনসিপি ও শিবিরের ট্যাগ লাগিয়ে বেধরক মারধর করে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ১টি ট্যাব, ২টি মোবাইল, মানিব্যাগ ও বিছানার নিচে রাখা হল ফি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আমার দাদা গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। পারিবারিকভাবে বিএনপির রাজনীতি করেও ছাত্রদলের ছেলেরা আজকে আমাকে শিবির আখ্যা দিয়ে মেরেছে।’
এ বিষয়ে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া জানান, ‘শিবিরের একটি ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। সেই গ্রুপে যারা যুক্ত আছে, তারা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার চালানো হয়। তাই তাদের ফোন চেক করে সেগুলো সাময়িক জব্দ করে পরবর্তীতে হল সুপারের কাছে দিয়ে আসা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার বিষয়টা তিনি অস্বীকার করেন।
সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুর ও লুটপাটের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমার ছাত্রদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছি। সেই সঙ্গে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আজিজুল্লাহ। বাকি দুই সদস্য হলেন—প্রফেসর মনোয়ার হোসাইন এবং প্রফেসর হুমায়ুন কবির। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে এদিন দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় ছাত্রশিবির ফতুল্লা থানায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।