

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশের পোলট্রি মুরগির মাংসের কিছু নমুনায় আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (অ্যান্টিবায়োটিক) অবশিষ্টাংশ বা রেসিডিউ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামে পরিচালিত এক যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকদের মতে, এ ধরনের অবশিষ্টাংশ জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
যুক্তরাজ্যের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (RVC)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক Poultry News। গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরাও অংশ নেন।
গবেষণার নেতৃত্ব দেন রয়েল ভেটেরিনারি কলেজের ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড।
গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে মোট ৫৫৮টি ব্রয়লার মুরগির বুকের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে নমুনাগুলো পরীক্ষা করে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুযায়ী যাচাই করা হয়।
নমুনাগুলোর একটি অংশ সংগ্রহ করা হয় খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ নেওয়া হয় বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত পোলট্রি খামার থেকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা নমুনার ৩ দশমিক ৭ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে আন্তর্জাতিক নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২১-২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে এ হার ছিল মাত্র ০.০৫ থেকে ০.০৯ শতাংশ।
গবেষকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে প্রাণীর শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পর নির্ধারিত অপেক্ষার সময় (Withdrawal Period) অনুসরণ না করেই জবাই করা হয়। ফলে মাংসে ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, যা মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী গবেষণা। এশিয়ায় একই মানদণ্ডে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ পরিমাপের এমন তথ্য আগে ছিল না। এই গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আমরা আশা করছি।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
‘ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব’-এর মাধ্যমে গবেষণাটিতে অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (UKRI) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড। সূত্র: এনপিজে রিসার্চ
