

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাম্প্রতিক সহিংসতা এবং একই সময়ে একাধিক ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের একই স্থান ও একই সময়ে তিনটি ছাত্রসংগঠন পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সম্ভাব্য সংঘাত, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় সব ছাত্রসংগঠনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এবং ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ ব্যানারে সাধারণ শিক্ষার্থীরা একই সময় শহীদ রফিক ভবনের সামনে পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জকসু বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শহীদ রফিক ভবনের সামনে আহত ও অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসহায়তা নিশ্চিত করতে একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
এ ছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ ব্যানারে সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল শিবিরের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও ‘মবতন্ত্রের’ বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের পেছনে গত ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলায় রূপ নেয়। কয়েক দফা সংঘর্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ বিভিন্ন সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিরাপদ স্থানে সরে যান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
এদিকে ৬ আগস্ট একই সময়ে একাধিক সংগঠনের কর্মসূচির ঘোষণার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগাম এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।