

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা: নতুন ও পরিবর্তনশীল যুগে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনা” শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) এনএসইউ সিন্ডিকেট হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ (সিপিএস) এর আয়োজনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিএস পরিচালক অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং এরা পরস্পরকে শক্তিশালী করে।”
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন , বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় (জিডিপির ১.১%) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের জন্য একটি সামরিক জোট গঠনের কৌশলও প্রস্তাব করেন তিনি। তিনি আরও জানান, প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না দেওয়ার কারণেই বাংলাদেশ একটি সুসংগত ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নে ব্যর্থ হচ্ছে। তার বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, দেশের সক্ষমতার এই ঘাটতি আমাদের অসম দুর্বলতাগুলোকে প্রকট করে তুলছে, তাই প্রাতিষ্ঠানিক আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি।
মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান বলেন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নের পূর্বশর্ত হলো একটি শক্তিশালী সাইবার অবকাঠামো তৈরি করা। এ প্রসঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সাইবার নিরাপত্তাকে যুক্ত করার এখনই উপযুক্ত সময়।”
কমোডর (অব.) সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন আহমদ একটি বহুমাত্রিক সামুদ্রিক কৌশলগত নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এর প্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা একটি সামুদ্রিক জাতি, তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সামুদ্রিক অঞ্চল সুরক্ষিত করা পূর্বশর্ত।" রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) এম. আনোয়ার হোসেন বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং একটি সমন্বিত ইন্দো-প্যাসিফিক রূপরেখা প্রণয়নের তাগিদ নিয়ে আলোচনা করেন। নিরাপত্তা সংক্রান্ত এসব সমস্যা সমাধানে একটি “সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিষদ” গঠনের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, “কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে ছোট রাষ্ট্রগুলোও বৃহৎ শক্তিগুলোকে পরাস্ত করতে সক্ষম”।
পরবর্তীতে বিশেষ অতিথি মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর একটি জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সমাপনী বক্তব্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, প্রতিরক্ষা খাতের বিনিয়োগ যখন দেশীয় গবেষণার সাথে যুক্ত হয়, তখন তা গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনে। এছাড়া, মডারেটর অধ্যাপক ড. এম জসিম উদ্দিন বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বাংলাদেশকে কেবল তার নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকেই মূল্যায়ন করা। কৌশলগত অস্থিতিশীলতাগুলো আরও ভালোভাবে মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশের একটি "জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি)" থাকা প্রয়োজন—এমন ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে এই সংলাপের সমাপ্তি ঘটে।