

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ ও সংগঠন দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের অভিযোগ, সুমন সরদার সাবেক ছাত্রদল নেতা সুজন মোল্লার অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেন। সুজন মোল্লা ও সুমন সরদারের ঘনিষ্ঠ এবং তাদের সঙ্গে রাজনীতি করা কয়েকজন জুনিয়রকে নিয়ে সাংবাদিক সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জবি রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি কমিটি থাকা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে, ‘শিবির’ বলে চালিয়ে দেওয়ার কথা বলে, নিজ উদ্যোগে ছাত্রদলের একজন পদধারী নেতা আতাউল্লাহ আল আহাদ যিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য এবং রিপোর্টার্স ইউনিটি থেকে আগেই আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডারবাজি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীরকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনের বহিষ্কৃত সাবেক দুই সদস্যকে চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে দিয়ে ওই দুই সাবেক সদস্যকে জানানো হয়, 'তোমাদের স্বাক্ষর আমরা আগের পুরোনো কাগজ থেকে স্ক্যান করে বসিয়ে দিচ্ছি।' জবি রিপোর্টার্স ইউনিটি দখলে নিচ্ছি আমরা এই বলে রাতারাতি একটি কমিটি ঘোষণা করেন। যেই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও জড়িয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সাংবাদিকদের দাবি, এভাবে একটি রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপে কমিটি ঘোষণার কারণে ক্যাম্পাসে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমে সাংবাদিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা স্বাধীন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। এর মাধ্যমে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সুমন সরদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'হ্যাঁ, এরা আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। আহাদ ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য। আমি বললে সে এখনই পদ থেকে বসে যাবে। আমার নিয়ন্ত্রণে আছে সে।'
এধরনের কর্মকান্ড তিনি কেন করেছেন জানতে চাইলে সুমন বলেন, তিনি বলেন যে না উনারা আমাকে বলেনি। ছাত্রদলের যে নেতা এই কমিটিতে আছে তারা এবং অন্যরা সবাই আমার রাজনৈতিক ছোট ভাই। আমি বললে তারা এখনই বসে যাবে।'
এই বিষয়ে আরও কিছু তথ্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিপোর্টারকে ‘শিবির’ ও ‘ছাত্রলীগ’ বলে চালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। সুমন সরদারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ‘মব’ ও মামলার হুমকি দেখানোর জন্য একটি নিজস্ব গ্যাং গড়ে তুলেছেন এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করেন।
এদিকে, অতীতে সুমন সরদারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ প্রকাশিত একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, চাঁদা তোলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এক মাসের জন্য সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর আগে একই বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২২ মার্চ আজমেরী পরিবহনের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এত অভিযোগের পরও সুমন সরদার লাগামছাড়া ও বেপরোয়া বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
সুমন সরদারের এত এত অপকর্মের বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল এবং সদস্যসচিব সামসুল আরেফিন, বলেন তার এসব অপকর্মে দায়ভার আমরা নিবোনা, জবি ছাত্রদল নিবে না।
উল্লেখ্য, সুমন সরদার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লার অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করেন। ক্যাম্পাসে তাঁর গ্রুপ ‘বিদ্রোহী’ গ্রুপ হিসেবে পরিচিত।