

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী মো. আবু জোবায়ের (২২) নিহত হয়েছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে আইন বিভাগের উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব উপস্থিত ছিলেন।
আইন বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ হিল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার মো. মনিরুল ইসলাম, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনোমিকসের ডিন মো. মাহবুব আলম, স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের ডিন ড. আবু আইয়ুব মো. ইব্রাহিম, রেজিস্ট্রার এ.এইচ.এম. আবু সাঈদ, ইইই বিভাগের প্রধান প্রফেসর এরশাদুল হক চৌধুরী, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান, ছাত্র বিষয়ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবদুল মতিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে জোবায়েরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সোমবার (১৫ জুন) রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির নিকট এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, জোবায়ের আরও দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটর সাইকেলে এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মো. আবু জোবায়ের মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন ‘মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেট ক্লাব (এমআইইউডিসি)’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন পরিচিত সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি সাফল্য অর্জন করেন এবং তাঁর মেধা, ভদ্রতা ও আন্তরিকতার জন্য সবার কাছে প্রিয় ছিলেন।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জোবায়েরের পিতা মো. আবুল কালাম আজাদ একজন কৃষক এবং মাতা জহুরা বেগম গৃহিণী। পরিবারে তাঁর একমাত্র ছোট ভাই রয়েছে, যিনি বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ২০১৪ সালে বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর জোবায়েরের অকাল মৃত্যু পরিবারে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
পরে মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে বাদ আসর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
