রবিবার
১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন, ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ববি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
expand
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

পদোন্নতির দাবিতে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কর্মসূচি দিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ।

রবিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের ব্যানারে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।একই দিনে পদত্যাগ করেছেন এক সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

এর আগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন চলছিল। পরে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হয়। ওই বৈঠকের পর শিক্ষকরা কর্মসূচি শিথিল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হওয়ার আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।

তবে শিক্ষক সমাজের দাবি, ৩০ এপ্রিলের বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হাঁটছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে নোটিশ দিয়ে ৯ মে সকাল ১১টায় একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, ওই সভায় অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করছেন।

এ পরিস্থিতিতে আজ সকালে অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা থেকে আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ওই দিন থেকে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ সব একাডেমিক কার্যক্রমে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। এ ছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।এদিকে উপাচার্য বলেছেন তার কাছে পদত্যাগের চিঠি পৌঁছায়নি।

শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং চলমান সংকট সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধৈর্য ধরে আলোচনার পথ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আবারও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচির ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনের কারণে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে সেশনজট আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে শিক্ষক নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড.হাফিজ আশরাফুল হক বলেন,"আমরা শিক্ষরা দীর্ঘদিন চেষ্টার পরও সমাধান পাইনি। সর্বশেষ সিন্ডিকেটেও বিষয়টি মীমাংসিত না হওয়ায় শিক্ষকরা আবারো কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছি। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলমান থাকবে।"

প্রক্টর থেকে পদত্যাগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল জানান, ‘সংকট সমাধানে উপাচার্য আমাদের ন্যায্য দাবি উপক্ষোয় করায় সহকর্মী শিক্ষক-কর্মকতারা হতাশ। চলমান সংকট সমাধানসহ সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যকে একাধিকবার অনুরোধের পরও তা কোন কাজে আসেনি। তাই পদত্যাগ করেছি।

সিন্ডিকেট সদস্য থেকে পদত্যাগের বিষয়ে ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার বলেন, ‘আমি সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবি আদায়ের পক্ষে কথা বললেও তা উপেক্ষিত হয়েছে। এ কারণে আমি আমার পথ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, "সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের পাঁচজন প্রতিনিধিসহ সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে- আগামী দুই মাসের মধ্যে অভিন্ন সংবিধি প্রণয়ন করে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু এরই মধ্যে শিক্ষকরা আবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আমরা বিধি অনুযায়ী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে সর্বোচ্চ আন্তরিক’। দুই শিক্ষকের পদত্যাগের উপাচার্য বলেন, ‘আমার কাছে এখনো পদত্যাগের কোনো চিঠি আসেনি। তারা অব্যাহতি দেবে- তা আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন।"

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন