সোমবার
২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাস সংকটে নোবিপ্রবি পরিবহন পুলে শিক্ষার্থীদের তালা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
বাস সংকটে নোবিপ্রবি পরিবহন পুলে শিক্ষার্থীদের তালা
expand
বাস সংকটে নোবিপ্রবি পরিবহন পুলে শিক্ষার্থীদের তালা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) দীর্ঘদিনের বাস সংকট চরম আকার ধারণ করায় পরিবহন পুলে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন এবং দ্রুত সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৭০ শতাংশই অনাবাসিক। তাঁদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা পরিবহন পুলের বাস। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাসে সিট পাওয়া এখন অনেকটা স্বপ্নের মতো—অধিকাংশ সময় অতিরিক্ত ভিড়ে ‘বাদুড়ঝোলা’ হয়ে যাতায়াত করতে হয়। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কিছু বাস মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

ভাড়ায় চালিত বিআরটিসির বাসগুলোর বেশিরভাগের ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে মাইজদী-সোনাপুর রুটে চলাচলের সময় শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বাসের শিডিউল কমিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে সকাল ও বিকালের ব্যস্ত সময়ে কয়েকগুণ বেশি যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করছে, অনেক শিক্ষার্থী দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও পাচ্ছেন না। ক্লাস শেষে বিকেলে গ্যারেজ থেকে মেইন গেট পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি করেও বাস না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ডিজেলচালিত বাসের ক্ষেত্রে জ্বালানি সংকটের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে পূর্বের শিডিউল পুনর্বহালের দাবিতে আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরই প্রতিবাদে তাঁরা পরিবহন পুলে তালা ঝুলিয়ে দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অবিলম্বে পূর্বের বাস শিডিউল পুনর্বহাল করতে হবে; বিআরটিসির নির্ধারিত ১৪টি বাস চালু করে সেগুলোর ফিটনেস নিশ্চিত করতে হবে; পরিবহন পুলের অফিস গ্যারেজে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন; নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগে অন্তত দুটি নতুন বাস সংযোজন করতে হবে; এবং বিকাল ও সন্ধ্যার বাস শিডিউল সমন্বয় করে মাইজদী থেকে ক্যাম্পাসগামী বাসগুলো ১০ মিনিট পরপর চালু করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন পুলের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, জ্বালানি সংকট এবং সরকারের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টায় নির্ধারণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সিডিউলেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনার প্রেক্ষিতে কয়েকটি বাসের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে ক্লাস বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলায় সব বাস চলাচল করত। বর্তমানে ক্লাস সময় বিকেল ৪টায় শেষ হওয়ায় বাসের সময়সূচিও এগিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া রাত ১০টার দিকে বাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। অন্যদিকে ছাত্রীদের হল প্রবেশের নির্ধারিত সময়সীমা বিবেচনায় নিয়েও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হলেও, শিক্ষার্থীরা যদি এতে ভোগান্তিতে পড়ে, তাহলে বিদ্যমান সিডিউল পুনর্বিবেচনা করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন