

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামের বাসিন্দাদের সাম্প্রতিক সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের ছাত্র মো. মামুন মিয়া।
তিনি টানা তিন দিন ছিলেন লাইফ সাপোর্টে। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে মামুনের একটি ছবি— যেখানে তাঁর মাথার ব্যান্ডেজে লেখা ছিল, “হাড় নেই, চাপ দেবেন না।” এটি ছিল মূলত সতর্কবার্তা, কারণ অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মাথার একটি অংশে হাড় নেই, তাই কোনোভাবে চাপ পড়লে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামলার সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মামুনের মাথার পেছনের ব্রেইন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্ত্রোপচারে তাঁর মাথা থেকে ১৩ টুকরো হাড় অপসারণ করা হয়, যা সংরক্ষিত রয়েছে। সুস্থ হয়ে উঠলে দুই মাস পর ওই হাড় ফের প্রতিস্থাপন করা হবে। এ ঘটনায় তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং কানের পর্দা ফেটে যায়।
বন্ধু ও সহপাঠীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামুনের ছবি শেয়ার করে দোয়া, সমবেদনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সহপাঠী রাসেল রানা জানান, “মামুনের অবস্থা ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে। এখন কেবিনে শিফট করা হয়েছে। ইশারায় কথা বলার চেষ্টা করছে। মাথার হাড় ভেঙে ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধেছিল, এজন্য অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।”
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ছোট ভাই মামুনের অবস্থা সবার জানা। কিন্তু কিছু গণমাধ্যম স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ঘরের টিনের ক্ষতিকে শিক্ষার্থীর মাথার হাড়ের চেয়ে বড় খবর বানিয়েছে।”
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আরিয়ান খান রাকিব লিখেছেন, “হাড় নেই, চাপ দেবেন না— এটা কেবল সতর্কবার্তা নয়, বর্বরতার প্রমাণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে থেকেও আশেপাশের কিছু মানুষ এতটা অমানবিক হয়ে শিক্ষার্থীর ওপর এভাবে হামলা চালাতে পারে, তা ভাবতেও কষ্ট হয়।”
পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) জিয়াউদ্দিন জানান, “মামুন বর্তমানে মোটামুটি স্থিতিশীল। মাথার ব্রেইনের অংশে অস্ত্রোপচার করায় আপাতত খুলি খুলে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অবস্থার উন্নতি হলে এক থেকে দুই মাসের মধ্যে হাড় পুনঃস্থাপন করা হবে।”
মন্তব্য করুন
