সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অর্থাভাবে থমকে যাওয়া স্বপ্নে প্রাণ ফেরালেন জবি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার  

জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
জবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন এক অসহায় শিক্ষার্থীকে অনার্সে ভর্তি করিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন
expand
জবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন এক অসহায় শিক্ষার্থীকে অনার্সে ভর্তি করিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন এক অসহায় শিক্ষার্থীকে অনার্সে ভর্তি করিয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

সম্প্রতি আর্থিক সংকটে উচ্চশিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া ওই শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন তিনি।

জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান ওই শিক্ষার্থী মেধা তালিকায় স্থান পেলেও ভর্তি ফি ও প্রয়োজনীয় খরচ জোগাড় করতে ব্যর্থ হন।

বিষয়টি জানতে পেরে শাহরিয়ার ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্থসহায়তা প্রদান করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভাগে যোগাযোগ সবকিছু তদারকি করেন। তার সহযোগিতায় শিক্ষার্থীর অনার্সে ভর্তি নিশ্চিত হয়।

এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের ৩নং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। অর্থাভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণে কাজে না আসে, তাহলে সেই রাজনীতির মূল্য নেই। আমরা চাই ক্যাম্পাসে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠুক, যেখানে শিক্ষার্থীরা একে অপরের শক্তি হবে, ভরসা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি, আজকের এই শিক্ষার্থী একদিন নিজের যোগ্যতায় সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অন্য কারও পাশে দাঁড়াবে। এই সহমর্মিতার চর্চাই আমাদের এগিয়ে নেবে। একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারা আমার জন্য গর্বের। ভবিষ্যতেও কোনো শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়লে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।

ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "আর্থিক সংকটের কারণে ভর্তি হতে পারছিলাম না। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেইসবুক পেইজ জবিয়ানস-JnU'ins এ বলি। তখন তারা আমার লিখা পোস্ট করে এবং এর প্রেক্ষিতে শাহরিয়ার ভাই আমার সাথে যোগাযোগ করে। এর পর অনলাইন ভর্তি ফি থেকে শুরু করে সরাসরি ভর্তি হওয়া সব কার্যক্রম করে দিয়েছেন শাহরিয়ার ভাই।"

তিনি আরো বলেন, " গ্রাম থেকে শহরে এসে ভর্তি হওয়া, আবাসন ব্যবস্থা করা এটা আমার জন্য এক প্রকার অসম্ভব ছিলো। আমার সুবিধার জন্য শাহরিয়ার ভাই আমাকে মেসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং যাবতীয় সাহায্য করবেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, আমরা বিশ্বাস করি রাজনীতি মানে শুধু মিছিল-মিটিং নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

অর্থাভাবে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাক-এটি আমরা চাই না। শাহরিয়ারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে ছাত্রদল মানবিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের যে কোনো যৌক্তিক প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে সবসময় সোচ্চার।

একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে অনার্সে ভর্তি করাতে সহযোগিতা করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা মনে করি, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। শাহরিয়ারের এই পদক্ষেপ সংগঠনের মানবিক চর্চারই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন জেলা থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভর্তি হন। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকের উচ্চশিক্ষার পথ বাধাগ্রস্ত হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে এসে একজন অসহায় শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এমন প্রেক্ষাপটে শাহরিয়ারের এ উদ্যোগ ক্যাম্পাসে প্রশংসিত হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন