

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শীত পেরিয়ে বসন্ত। চারদিকে রঙের মেলা, পাখির কলরব আর মনকাড়া সৌরভ। শীতের নিষ্প্রাণ প্রকৃতিকে বিদায় জানিয়ে নবজীবন নিয়ে আসে বসন্ত। এই ঋতুতে গাছে গাছে নতুন পত্র-পল্লবের পাশাপাশি ফুটে ওঠে বাহারি রঙের ফুল।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসও বসন্তের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে বর্ণিল, প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণায় কোণায় বসন্তের আগমনি বার্তা নিয়ে বাহারি রঙের ফুল। রাস্তার ধারে, মাঠের পাশে কিংবা প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হলের সামনে নানা রঙের ফুল ফুটে ক্যাম্পাসকে এক স্বপ্নিল রূপ দেয়। বিশেষ করে গোলাপের টকটকে লাল আভা যেন আগুনের শিখার মতো জ্বলজ্বল করে।
পাশাপাশি গাঁদা, জাম্বু গাঁদা, ক্যালেন্ডুলা, পিটুনিয়া, ভাররবিনা, দেশি সিলভিয়া, হাইব্রিড গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, ড্যামথাস, ডালিয়া, গোলাপ, মোরগ ঝুঁটি, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন রঙের ফুলের দীপ্তিময় উপস্থিতি ক্যাম্পাসজুড়ে এক উৎসবের আবহ তৈরি করে।
বসন্ত শুধু গাছপালা আর মানুষের মধ্যেই প্রাণের সঞ্চার ঘটায় না, পশু-পাখিরাও এ সময় তাদের সেরা রূপ ধারণ করে। ক্যাম্পাসের গাছে গাছে বসে থাকে দোয়েল, শালিক, টুনটুনি আর নানা জাতের পাখি।
তাদের কিচির-মিচির ডাকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাসি-আনন্দ মিলেমিশে এক স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রজাপতির আনাগোনা, মৌমাছির গুঞ্জন আর বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ফুলের সৌরভ প্রকৃতিকে আরও বেশি সজীব করে তোলে।
বসন্তের ফুলে সজ্জিত ক্যাম্পাস শুধু রূপে নয়, অনুভূতিতেও সমৃদ্ধ করে সবাইকে। ব্যস্ত শিক্ষাজীবনের ফাঁকে এই ঋতুর রং ও সৌন্দর্য যেন শিক্ষার্থীদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।
বসন্তের এই মোহময় পরিবেশ একদিকে যেমন ভালোবাসায় মুগ্ধ করে, অন্যদিকে সৃষ্টিশীলতাকে জাগিয়ে তোলে। প্রতি বছর বসন্ত ফিরে আসে, ক্যাম্পাসকে রাঙিয়ে দিয়ে যায় নতুন রঙে, নতুন প্রাণে। বসন্তের ফুলে সজ্জিত এই ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে ভালোবাসার, সৃষ্টির ও উদ্দীপনার এক স্বপ্নরাজ্য, যা শিক্ষার্থীদের স্মৃতির পাতায় চির অমলিন হয়ে থাকে।
ক্যাম্পাসের প্রতিটি স্থানে শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। কেউ বসন্তের ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত, কেউ-বা বন্ধুদের নিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠে। ক্যাম্পাসের খোলা প্রাঙ্গণে বসন্তের আবহে গান-বাজনা, কবিতা আবৃত্তি, বসন্ত উৎসবের আয়োজন হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের অন্যতম বিনোদন। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন দর্শনার্থীরা। তারা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের স্মৃতিকে ফ্রেমবন্দি করে রাখেন।
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর প্রাণের ক্যাম্পাস। ১০১ একর বিস্তৃত সবুজ এই ক্যাম্পাস শীত মৌসুমে নতুন রূপে সেজে ওঠে। এ সময় গাদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গোলাপ, হাসনাহেনাসহ নানা প্রজাতির ফুলে ভরে যায় পুরো প্রাঙ্গণ।
শীতকালে অতিথি পাখির আগমনে ক্যাম্পাসের সকালগুলো হয়ে ওঠে আরও মুখর। ফুল ও পাখির সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ একটি প্রাকৃতিক উদ্যানের রূপ নেয়, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের জন্য সৃষ্টি করে প্রশান্ত পরিবেশ। নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমের ফলে নোবিপ্রবি আজ প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও এক অনন্য আকর্ষণ।
শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদুল হক বলেন, বিভিন্ন ধরনের ফুল ফুটে ক্যাম্পাসটি যেন নতুন রূপে সেজেছে। দূর থেকে দেখতে ফুলের বাগানের মতো মনে হয়। প্রজাপতি বসছে। দৃশ্যগুলো অনেক সুন্দর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব, দৃষ্টিনন্দন ও পড়ালেখার জন্য উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
এর অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ফুলবাগান তৈরির কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রীন ক্যাম্পাসে রূপান্তর করা।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি আবাসিক হলে বাগান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর দুই পাশে বাহারি রঙের ফুলগাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়াবে।
এছাড়াও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে আমরা একটি ইলেকট্রিক ভ্যাকুয়াম রোড সুইপার ট্রাক কেনার চেষ্টা করছি। এটি ক্রয় করা সম্ভব হলে ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখা অনেক সহজ হবে। তখন ধুলাবালিমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও মনোরম একটি ক্যাম্পাস গড়ে তোলা সম্ভব হবে -যা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
মন্তব্য করুন
