

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে ঘটে যাওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। একই সঙ্গে তিনি তার পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া এক পোস্টে এ সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
সেখানে সর্বমিত্র চাকমা লেখেন, ‘শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে।’
তার দাবি, বহিরাগতদের কারণে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে, যা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীরা বারবার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার কিংবা বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন সর্বমিত্র চাকমা।
তিনি আরও লেখেন, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে মাঠে প্রবেশ করে। একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করে এবং বাধা দিলে স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়, যা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বেড়েছে। পোস্টে সর্বমিত্র চাকমা স্বীকার করেন, এই নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টায় তিনি তাদের কান ধরে উঠবস করান। তিনি লেখেন, এ ধরনের শাস্তিমূলক আচরণ তার প্রত্যাশিত ছিল না এবং এটি করা তার উচিত হয়নি। ঘটনার জন্য তিনি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করি আমার প্রসেস ভুল ছিল, এবং আমার আবেগটা এই জায়গায় যে , আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। যখন বারবার মোবাইল চুরি-হেনস্তার কেইস আসতে থাকে— প্রশাসন যেখানে নিশ্চুপ, আমার এটা ছাড়া বোধ হয় উপায় ছিল না।’
একই সঙ্গে ওই পোস্টে তিনি ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার ভাষ্যমতে, “এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং কোনো ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নেওয়া নয়। শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে তাকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, তা পূরণ করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন মনে করেই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।”
মন্তব্য করুন
