

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে চাঁদার বিনিময়ে দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান আব্দুল্লাহ ও জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক নুরুল গণি সগীরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সগীর সর্বশেষ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কবি জসীমউদ্দীন হল সংসদের বাগছাস মনোনীত ভিপি প্রার্থী ছিলেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্য জানান ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা।
তিনি বলেন, “এক মাস আগে একটি মোমোর দোকান ধরি। রাইয়ান আব্দুল্লাহ নিজেকে দোকানের মালিক দাবি করেন এবং বিক্রেতা নবীকে পরিচয় করিয়ে দেন কর্মচারী হিসেবে।, প্রক্টরিয়াল টিমের সাহায্যে জিজ্ঞাসাবাদে নবী স্বীকার করেন মূলত অর্থের বিনিময়ে রাইয়ান আব্দুল্লাহ দোকানটি বসান এবং সব রকমের শেল্টার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
দোকানটি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে সগীর ভাই আমাকে কল দিয়ে দোকানটি তার বলে দাবি করেন এবং ছেড়ে দিতে বলেন।”
সর্ব মিত্র বলেন, “মূলত দোকানটি তাদের কারোর না। চাদার বিনিময়ে শেল্টার দিয়ে দোকানটি বসান তারা। অংশীদারি ব্যবসায়ে এটাকে বোধ হয় ‘নামমাত্র অংশীদার’ বলে। যেখানে টাকার বিনিময়ে "ঢাবি শিক্ষার্থী" পরিচয় বিক্রি করা হয়।"
পোস্টে সর্ব মিত্র উল্লিখিত দোকান মালিকের একটি জবানবন্দি সংযুক্ত করেন। সেখানে বলা হয়, “আমি মোঃ নুরুন নবী, পিতা আবুল হক। আমি গত নভেম্বর মাসের ৪ তারিখ শহীদুল্লাহ হলের ১৬-১৭ সেশনের রাইয়ান আব্দুল্লাহ এবং জসীম উদ্দীন হলের নুরুল গনী সজীবের" এর মাধ্যমে লাইব্রেরির সামনে একটি দোকান বসাই এবং ওই দিনে প্রক্টরিয়াল টিম দোকানটি জব্দ করে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল গণি সগীর বলেন, ”জুলাই-গণ অভ্যুত্থানের সময় রাইয়ান আব্দুল্লাহ ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়। তিনি কিছুদিন আগে লাইব্রেরীর সামনে একটি মোমোর দোকান দেন। যেটি তিনি কর্মচারী দিয়ে পরিচালনা করতেন। ডাকসুর উচ্ছেদ অভিযানকালে সর্বমিত্র চাকমা দোকানটি উচ্ছেদ করে দেয়। সর্বমিত্রের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক থাকায় রাইয়ান আব্দুল্লাহ ভাই আমাকে বলেন আমি যাতে সর্বকে অনুরোধ করি যাতে সে দোকানটি উচ্ছেদ না করে। এজন্য আমি সর্বমিত্র কে ফোন দিই। ক্যাম্পাসেরও কোথাও কাউকে দিয়ে কোনো দোকান বা ফুড কার্ট আমি চালাই না।”
জবানবন্দিতে নাম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে দোকানদার জবানবন্দি দিয়েছেন তাকে আমি চিনি না। রাইয়ান আব্দুল্লাহ ভাই তাকে দিয়ে দোকান চালাতেন। তার সাথে আমার কখনো কথাও হয়নি। এখানে আমার নাম কিভাবে আসলো তা আমি জানি না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাইয়ান আব্দুল্লাহ বলেন, “দোকানদার নুরুন নবী আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোমো বিক্রি করতেন। সেখানে উচ্ছেদ করার পরে একদিন টিএসসিতে তার সাথে আমার দেখা হয়। আমি আগে থেকেই ফুড কার্ট চালাতাম। এজন্য তার ব্যবসার অর্ধেক শেয়ার নিয়ে আমরা ঢাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীর সামনে মোমোর দোকান দিই।”
মন্তব্য করুন
