সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএপিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুই শিক্ষক বহিষ্কার

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিন
expand
সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীর এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিন

হিজাব–নিকাব নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও শিক্ষার্থীদেরকে হেনস্থার প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের মুখে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ব্যাসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।

তাছাড়াও, আওয়ামী রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রেজিস্টার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এবং সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ও পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে বিবেচনা করার পর, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেসিক সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিসেস লায়েকা বশির এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনের চাকরি বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই বরখাস্ত ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। তথ্য এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ডের জন্য এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হল।

এদিকে, পাবলিক ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ নামক ফেসবুক পেইজে বলা হয়, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কর্তৃপক্ষ পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসলামবিদ্বেষী আচরণ ও হিজাব নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে লায়েকা বশিরকে এবং আওয়ামী রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সায়েম মহসিনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানান, আলাদা ব্যক্তির পদত্যাগ পাশাপাশি, তারা একটি টেকসই ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা চান।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ইউএপি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইসলাম বিদ্বেষের অভিযোগ এনেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসা বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিন দফা দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা।

শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে কারণ দর্শানোর নোটিশের প্রতিবাদ; হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগে শিক্ষিকা লায়েকা বশীরের স্থায়ী বহিষ্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান ইসলামবিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তারা অব্যাহত কর্মসূচি পালন করছিলেন শিক্ষার্থীরা।

গত ১৮ জানুয়ারি দুই শিক্ষককে বহিষ্কারের আগ মুহূর্তে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, হিজাব ও নিকাব পরিধানের কারণে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের ক্লাসে প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক আচরণ, ইসলামের বিধান নিয়ে কটূক্তি এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক লায়েকা বশীরের বিরুদ্ধে।

এছাড়া, ক্লাস চলাকালে নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ সৃষ্টি এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের হাতে এসব কর্মকাণ্ডের কিছু ভিডিও প্রমাণ রয়েছে বলে তারা জানান।

তারা আরও জানান, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট জুম্মার নামাজের পর অধ্যাপক ড. শমসাদ আহমেদ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ শায়খ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং একটি গ্রুপ ছবি তোলা হয়।

ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়, যা সরাসরি ধর্মীয় পক্ষপাত ও ইসলামবিদ্বেষের প্রকাশ। কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা ইসলামবিদ্বেষ আরও স্পষ্ট হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X