

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভূঁইয়াকে (মোনামি) নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে অধ্যাপক নজরুল নিজের ওয়ালে এ পোস্ট করেন। তবে এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে পরদিন পোস্টটি সরিয়ে নেন। অধ্যাপক নজরুল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘শিবিরের কোলে আর জামাতের তলে কতদিন খেলবেন? প্রকাশ্যে আসুন দেখি কতো খেলতে পারেন। আমাদের মা বোনেরাও পর্দা হিজাব করেন। নিজেকে খোলামেলা রেখে পর্দা হিজাব নিয়ে রাজনীতি করবেন না। ডাকসু নির্বাচনে আপনার চেহারা দেশবাসী দেখেছেন।’
এদিকে, অধ্যাপক নজরুলের এসব মন্তব্যকে ঘিরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, জাকসু নেতাসহ ডাকসুর নেতৃবৃন্দও।
জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সম্পাদক হুসনি মোবারক এক ফেসবুক পোস্ট বলেন, ‘আজ আমরা ভীষণভাবে লজ্জিত। উনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হবার কারণে উনি আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার বিষয়ে পোস্ট করতে গিয়ে "কোলে" "তলে" "খেলতে পারা" এ ধরনের জঘন্য শব্দ ব্যবহার করেছেন। ভাবতে অবাক লাগছে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে এরকম অশিক্ষিত রাস্তার টোকাইদের মতো নোংরা ভাষা উনি কিভাবে ব্যবহার করেন। আরো অবাক করার বিষয় উনি একজন ছাত্রী হল এর প্রভোস্ট। আমরা ভীত হয়ে পড়ি এই ধরনের সেক্সচুয়াল ফাস্ট্রেশনে ভোগা লোক না জানি তার হলের ছাত্রীদের কোন দৃষ্টিতে দেখেন!! তার কাছে কি আদৌ তার হলে ছাত্রীরা নিরাপদ?’
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এক পোস্টে বলেন, ‘উনাকে পাড়া-মহল্লার টোকাই বা গ্রামাঞ্চলের পাতি নেতা ভাবলে ভুল করবেন। উনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। মন্তব্যটা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে। শিক্ষিকার দোষ, উনি স্পষ্টবাদী। চাঁদাবাজি, দখলদারি, নারী হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। যেই দলের থিংক-ট্যাংকদের মুখের ভাষা-ই এমন কুরুচিপূর্ণ। ছাত্রসংসদ নির্বাচনে তাদের ধারাবাহিক ভূমিধস পরাজয়ের কারণ আর জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন পড়ে না। অ্যান্ড জাতীয় নির্বাচন অলসো লোডিং।’
জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি, উনি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। শুধু তাই নয়, তিনি আমাদের একটি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং হল প্রভোস্ট। এ ধরনের বক্তব্য কোনো শিক্ষকের ভাষা হতে পারে না। এমন কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য কেবল একজন জঘন্য ও নিচু মন-মানসিকতার মানুষের পক্ষেই সম্ভব।’
মন্তব্য করুন
