শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতিবিদরা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য করেছে: সর্বমিত্র

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:৩৫ পিএম আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা
expand
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা দাবি করেছেন, দেশের রাজনীতিবিদরা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক মনোভাব দেখাচ্ছেন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

সর্বমিত্র চাকমা তার পোস্টে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান–এর সাম্প্রতিক মন্তব্য—‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসায় রূপ নিয়েছে’—কঠোরভাবে সমালোচনা করেন।

তার মতে, “এ ধরনের বক্তব্য কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অপমান নয়, বরং আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসার লাখো শিক্ষার্থীর মর্যাদাকেও অবমাননা করে। যারা মনে করেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মাদ্রাসা ট্যাগ’ জুড়ে দিলে তা হেয় করা যায়, তারা নিজেরাই আসলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য করেন।”

ডাকসু সদস্যের মতে, রাজনীতির মূলধারায় যখন নেতারা প্রকাশ্যে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঘৃণামূলক ও বৈষম্যমূলক বক্তব্য দেন, তখন সামাজিক প্রতিক্রিয়া খুব একটা দেখা যায় না। এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সর্বমিত্র লিখেছেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মতো দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসেবে আমি বৈষম্যের বেদনা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি। যারা মাদ্রাসা নিয়ে ঘৃণা ছড়ায়, তারাই আবার আমাদের স্বকীয়তা ও সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে বাঙালি হয়ে যেতে বলে।

পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও ওয়াজকারী আমির হামজার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। হামজা দাবি করেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলে আজান বন্ধ ছিল; শিবির ডাকসুতে জয়ী হওয়ার পর আজান চালু হয়।

সর্বমিত্র এ বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ উল্লেখ করে জানান, হাসিনার শাসনামলে জসিমউদ্দিন হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ছাত্রলীগ আজানে বাধা দিলেও জুলাই বিপ্লবের পর তা দূর হয়। কিন্তু মুহসীন হলে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ নেই। তাছাড়া সাম্প্রতিক ডাকসু নির্বাচনের সাথেও আজান চালুর কোনো সম্পর্ক নেই।

তার মতে, এমন বিভ্রান্তিকর দাবি মূলত ইসলামবিদ্বেষকে হালকা করে উপস্থাপন করে এবং জনসমক্ষে হাস্যরসের বিষয় হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে, “যখন একটি দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী এ ধরনের মন্তব্য দেন, তখন সেই দল প্রার্থী বাছাইয়ে কতটা বিচক্ষণ তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন