

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


খুলনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের চার জেলার নদীতে হত্যার পর মরদেহ ফেলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
নৌপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ মাসে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পিরোজপুরের নদী থেকে ৭৫টিরও বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি অজ্ঞাত পরিচয়ের।
নৌপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। চলতি বছরের ১০ মাসে অক্টোবর পর্যন্ত নদী থেকে আরও ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু খুলনায় মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত আরও অন্তত ৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
তাজা উদাহরণ হিসেবে, ১৭ অক্টোবর দাকোপের বাজুয়ার চুনকুড়ি নদী থেকে আশিষ সরকারের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে পাইকগাছা উপজেলার সোনাদানা ইউনিয়নের শিবসা নদীর চর থেকে ইকরাম হোসেন নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগের দিন, ১৬ অক্টোবর পাইকগাছার জিরবুনিয়া খাল থেকে অজ্ঞাত বয়সের (৪০) এক যুবকের মরদেহ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রায় প্রতিদিন নদী ও খালে মানুষের মরদেহ ভেসে উঠছে। ৫ আগস্টের পর পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ ভূমিকা নেই। র্যাব এবং পুলিশের নজরদারি যথাযথভাবে কাজ করছে না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা খারাপ হওয়ার সুযোগে বিভিন্ন সন্ত্রাসী আত্মগোপন থেকে ফিরে এলাকায় ফিরে এসেছে। তারা এই ধরনের অপরাধ করছে। দ্রুত বিচার কার্যক্রম চালু হলে অপরাধীরা ভয় পাবে।”
মোমিনুল ইসলাম বলেন, “মরদেহের অধিকাংশই অজ্ঞাত। শনাক্তকরণের জন্য আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করলে অপরাধীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।”
খুলনা নৌপুলিশ সুপার ড. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “নদীতে যে মরদেহ পাওয়া যায়, আমরা তিন ধরনের মৃতদেহ দেখি—দুর্ঘটনাজনিত, আত্মহত্যা ও হত্যাজনিত।
হত্যাজনিতের মধ্যে আবার দুই ভাগ—নবজাতক এবং বয়স্ক। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের করে তদন্ত চলছে। সর্বাধিক হত্যাজনিত মৃতদেহই উদ্ধার হয়।”
মন্তব্য করুন
