শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জবি ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হত্যা: ত্রিভুজ প্রেমের বলি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম
জবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যায় আটক ছাত্রী এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ
expand
জবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যায় আটক ছাত্রী এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যার ঘটনায় এক কলেজছাত্রীকে আটক করেছে বংশাল থানা পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রী জানিয়েছেন, পূর্ব প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙার পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্ব থেকে সংঘটিত হতে পারে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, আটক তরুণী জুবায়েদকে পছন্দ করতেন। বিষয়টি তার প্রেমিক জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন। তাদের নয় বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরই এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যার নাম উঠে এসেছে, তিনি মো. মাহির রহমান—বোরহানউদ্দিন কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নূরবক্স এলাকার বাসিন্দা।

জানা যায়, নিহত জুবায়েদ হোসাইন জবি’র পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন।

তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।

প্রায় এক বছর ধরে পুরান ঢাকার নূরবক্স লেনের রৌশান ভিলায় এক ছাত্রীকে ফিজিক্স, কেমেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে সেই ছাত্রীদের বাসার তৃতীয় তলায় তার লাশ পাওয়া যায়।

সিঁড়ি বেয়ে নিচতলা থেকে উপরের তলা পর্যন্ত রক্তের দাগ ছিল। স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ট হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর জবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বাসাটি ঘিরে ফেলে। পরে লালবাগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই ছাত্রীকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

হত্যার প্রতিবাদে রাতে বংশাল থানার সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে জবি শিক্ষার্থীরা।

নিহত জুবায়েদের ভাই এনায়েত হোসাইন সৈকত জানান, তারা ছয়জনকে আসামি করে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রী, তার বাবা-মা, মামা, প্রেমিক মাহির রহমান ও তার এক বন্ধু।

এদিকে, আশপাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই যুবক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছেন—একজনের গায়ে কালো টি-শার্ট, অন্যজনের গায়ে গোলাপি।

তাদের মুখ স্পষ্ট দেখা না গেলেও পুলিশ ধারণা করছে, এদের একজন অভিযুক্ত প্রেমিক মাহির হতে পারেন। সব সিসিটিভি ফুটেজ বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করছে তদন্তকারী দল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন