শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে বিএনপির সাবেক মহাসচিবের বাসায় যুবদল পরিচয়ে চাঁদা আদায়

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০২ এএম আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০৪ এএম
সিসি ফুটেজ থেকে নেওয়া, (ইনসেটে) বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার
expand
সিসি ফুটেজ থেকে নেওয়া, (ইনসেটে) বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার

রাজধানীর মগবাজারে বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন (প্রয়াত)-এর পরিবারের সদস্যদের কাছে গত শুক্রবার রাতে যুবদল পরিচয়ে চাঁদা দাবি ও ভয়-ভীতি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সেই অভিযোগ নিয়ে হাতিরঝিল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে, তবে ঘটনার চার দিন পার হওয়া সত্ত্বেও আশানুরুপ কোনো গ্রেপ্তার বা মামলা দায়ের হয়নি বলে তারা জানান।

জানা যায়, খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলুর পরিবারের এক বাসিন্দা শারমিন ওয়াদুদ নিপাকে ওই রাতেই তাদের বাসায় আটকে রেখে এক লাখ টাকা দাবির তথ্য দেয় আহত পরিবার।

টাকা না থাকায় ওই পরিবারের সদস্যরা সিটি ব্যাংকের মগবাজার বুথ থেকে ৮০ হাজার টাকা তুলে দেন এবং বাকি ২০ হাজার টাকার জন্য একটি চেক দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।

টাকা নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিজেকে হাতিরঝিল থানা যুবদলের নেতা ‘শাওন’ ও আরেকজন ‘হাবিব’ নামে পরিচয় দেন; সঙ্গে ছিলেন সাজিদ ও সানি নামের আরও দুই ব্যক্তি।

অভিযুক্তদের বাড়িতে প্রবেশ ও টাকা নেওয়ার বিবরণে বলা হয়, নয়াটোলা গ্রিনওয়ের ৬৫৩ নম্বরের ৪/বি ফ্ল্যাটে উপস্থিত ওই চারজন চাঁদা দাবি করে। দাবিপূরণ না হলে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে না হবে, মোবাইল কেড়ে নিতে হবে এবং মারার হুমকিসহ ভয় দেখানো হয়—এমন কথাও অভিযোগে এসেছে।

উপস্থিত থাকা এক নারী জানান, শাওন কোমরে পাল্টা অস্ত্র দেখিয়ে ভীতি সৃষ্টি করেন।

ভয়ে রাতেই তারা ৮০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন এবং আগামি সময়ে ফ্ল্যাট খালি করতে না পারলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত চলছে। তিনি জানান, সন্দেহভাজনদের শনাক্তের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং পরীক্ষার পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী এখনও কাউকে গ্রেপ্তার বা মামলা রেকর্ড করা হয়নি; পুলিশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে।

এ বিষয়ে এলাকায় বিএনপির এক নেতা বলেন, অভিযুক্ত হাবিব বর্তমানে যুবদলের পদধারী; আর শাওন, সাজিদ ও সানি দলের কোনো স্থায়ী পদধারী নন—তারা প্রভাবশালী এক নেতার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত ছিল বলে এলাকায় কথিত আছে।

ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের প্রতি দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে এবং নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে—চেয়োগুলোর তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি প্রয়োগ করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন