

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে পোশাক কারখানা ও কসমিক ফার্মা নামের একটি কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন লাগে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম।
ফায়ার সার্ভিস আশঙ্কা করছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কেমিক্যাল গোডাউনের ভেতরে এখনো আগুন জ্বলছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। উদ্ধার হওয়া সব লাশ পোশাক কারখানার ভবন থেকে পাওয়া গেছে এবং সেগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আগুনে দগ্ধ তিনজনকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় মিলেছে—মো. সুরুজ (৩০) ও মো. মামুন (৩৫)। দুপুর দুইটার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে আনা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, “এ পর্যন্ত ১৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই কেমিক্যাল বিস্ফোরণে সৃষ্ট বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। অনেকেই বের হতে পারলেও কিছু শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন এবং আর বের হতে পারেননি।”
অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ঘটনাস্থলে এসে দেখা যায়, দুটি জায়গায় আগুন জ্বলছে—একটি পোশাক কারখানায়, অন্যটি কেমিক্যাল গোডাউনে। তাই আগুনের সূত্রপাত কোথায়, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, “গোডাউনের ভেতরে এখনো আগুন জ্বলছে, তাই কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে না। উন্নত যন্ত্রপাতি—ড্রোন, হিউম্যানলেস টেকনোলজি ও লুপ-৬০ গ্রাউন্ড মনিটর—ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে।”
স্থানীয়রা জানায়, স্থানটি ‘আলম কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি’ নামে পরিচিত। তবে এখনো পর্যন্ত মালিক, ম্যানেজার বা কর্মচারীদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ধারণা, কেমিক্যালটির সরকারি অনুমোদন ছিল না। তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, “আমাদের এখানে দুইজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সুরুজের শরীরে দুই শতাংশ দগ্ধ ক্ষত রয়েছে এবং মামুন ইনহেলেশন ইনজুরিতে আক্রান্ত। তাদের অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।”
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুটি ভবনে একসঙ্গে আগুন লাগে—একটি সাততলা পোশাক কারখানা এবং অন্যটি রাসায়নিক গুদাম। পোশাক কারখানার চারতলায় আগুন লেগেছিল, যা এখন নিয়ন্ত্রণে। তবে কেমিক্যাল গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সেখানে ব্লিচিং পাউডার, প্লাস্টিক ও হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের মতো দাহ্য পদার্থ ছিল, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
