বুধবার
১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার যে সড়ক ও মোড়গুলো সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক যৌথ গবেষণায় রাজধানী ঢাকায় সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানগুলো তথ্য প্রকাশ করছে।

গবেষণা এই প্রতিবেদনে, ঢাকার সবচেয়ে বিপজ্জনক মোড় ও সড়কগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি তৈরিতে সহায়তা করেছে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালে ঢাকার সড়কে ৫২১টি মারাত্মক দুর্ঘটনায় ৫৪০ জন নিহত হন। ২৫০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ঘটা দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে ২২টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্থানে সর্বোচ্চ ১২ জন করে মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একটি হলো ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও বিমানবন্দর-দক্ষিণখান সড়কের সংযোগস্থল, অন্যটি যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড়।

এর পরেই রয়েছে আব্দুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকা, যেখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিকুঞ্জ বাস স্টপ, কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড়, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের সার্ভিস রোড এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দনিয়া কলেজের সামনে সাতজন করে নিহত হয়েছেন।

মিরপুর-১ নম্বর মোড়, মহাখালী মোড় ও লেভেল ক্রসিং, গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট, শনির আখড়া এবং মাতুয়াইল বাস স্টপে ছয়জন করে মানুষ নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে পাঁচটি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতি কিলোমিটারে মৃত্যুর হারে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে মাতুয়াইল বাস স্টপ)। মাত্র ৪ দশমিক ২ কিলোমিটারের এই করিডোরে ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে প্রাণ গেছে প্রায় ১২ জনের।

মোট মৃত্যুর সংখ্যায় শীর্ষে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (আব্দুল্লাহপুর বাস স্টপ থেকে আর্মি গলফ ক্লাব পর্যন্ত)। এই আট কিলোমিটারের মধ্যে ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ, প্রতি কিলোমিটারে গড়ে আটজনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে।

মিরপুর ১০ থেকে দারুস সালাম পর্যন্ত সড়কে ১৫ জন, পুরোনো বিমানবন্দর সড়ক থেকে নতুন বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত ১৫ জন এবং অতীশ দীপঙ্কর সড়কে ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৪০ জনের মধ্যে ৫৬ শতাংশই পথচারী। মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মৃত্যুর হার ২৪ শতাংশ।

রিকশাচালক ও আরোহীদের ক্ষেত্রে এই হার আট শতাংশ, সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালক চার শতাংশ, চার চাকার গাড়ির যাত্রী চার শতাংশ এবং সাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রে দুই শতাংশ।

রিকশাচালক ও আরোহীদের ক্ষেত্রে এই হার আট শতাংশ, সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ও চালক চার শতাংশ, চার চাকার গাড়ির যাত্রী চার শতাংশ এবং সাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রে দুই শতাংশ।

মোট প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ৯৪ শতাংশই পথচারীকে ধাক্কা দেওয়া, পেছন থেকে সংঘর্ষ (রিয়ার-অ্যান্ড) এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ (হেড-অন); এই তিন ধরনের।

লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিহতদের ৮১ শতাংশ পুরুষ এবং ১৯ শতাংশ নারী। বিশেষ করে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি কর্মক্ষম পুরুষরা সবচেয়ে বেশি (৫৩ শতাংশ) দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

নারীদের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। নিহত মোটরসাইকেল আরোহীদের ৭৮ শতাংশই ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সি পুরুষ।

ঢাকার সড়কে সবচেয়ে বিপজ্জনক যানবাহন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাস ও ট্রাক। পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটে বাসের ধাক্কায়। ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ হয় ট্রাকের কারণে।

মোটরসাইকেল আরোহীদের মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ ঘটে ট্রাকসংক্রান্ত দুর্ঘটনায়। ২০ শতাংশের মৃত্যু হয় বাসসংক্রান্ত দুর্ঘটনায়।

প্রতিবেদনে একাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, এমন দুর্ঘটনায় ৫১ শতাংশ প্রাণহানির জন্য বাস এবং ৩৮ শতাংশের জন্য ট্রাককে দায়ী করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Portugal VS Congo DR
Scheduled
17 Jun, 11:00 PM
VS
World Cup