রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুছাব্বিরের শরীরে দুই গুলি, সুফিয়ানের একটি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির
expand
আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরের শরীরে দুইটি গুলি লাগে। তার সঙ্গে থাকা কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ানের শরীরে লাগে একটি গুলি।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান।

তিনি বলেন, “মুছাব্বিরের কনুইতে একটি এবং পেটে একটি গুলি লাগে। আর আবু সুফিয়ানের পেটে একটি গুলি লাগে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে ৭.৬৫ বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।”

পুলিশ জানায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টা ২০ মিনিটে তেজগাঁওয়ের স্টার কাবাবের পেছনে, তেজতুরী বাজার এলাকার আহছানউল্লা ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (এআইটিভিইটি) পলিটিকাল ইনস্টিটিউটের সামনে গুলিবিদ্ধ হন মুছাব্বির এবং আবু সুফিয়ান। পরে তাদের উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে মুছাব্বির মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সুফিয়ানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন। মুছাব্বিরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে মুছাব্বির ও আবু সুফিয়ান মূল সড়কের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন এআইটিভিইটি সেন্টারের সামনে ছোট অন্ধকার গলিতে ওৎ পেতে থাকা দুই দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে দুর্বৃত্তরা মূল সড়কের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। আহত মুছাব্বির ও আবু সুফিয়ান আহত অবস্থায় আবার গলির ভেতরে ঢুকে কিছুদূর গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৪২)। মামলায় তিনি ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তার স্বামীর অনেক শত্রু ছিল এবং তার জীবন হুমকির মধ্যে ছিল।

ডিসি ইবনে মিজান বলেন, “গতকাল রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হত্যার ঘটনায় আজকে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তার স্ত্রী ৪–৫ জনকে অজ্ঞাতনামি আসামি করে অভিযোগ দিয়েছেন। সেটি আমরা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। এছাড়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দুইজনকে দেখতে পেয়েছি। তাদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণও আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “বেশকিছুদিন ধরে মুছাব্বির তার স্ত্রীকে বলছিলেন, তার অনেক শত্রু আছে এবং বড় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে তিনি আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেননি। কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত কারণেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে কিনা, তা জানতে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পাইনি। তবে এই বিষয়টিও মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X