

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রুপার দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই মূল্যবান ধাতুটির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। একই সঙ্গে প্রযুক্তিখাতেও রুপার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
৯ ডিসেম্বর স্পট মার্কেটে রুপার দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ৬০ ডলারে ওঠে। স্পট মার্কেট এমন একটি বাজার, যেখানে তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যবান ধাতুর কেনাবেচা সম্পন্ন হয়।
চলতি সপ্তাহে সোনার দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বছরের শুরুতেই সোনা রেকর্ড দামে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তখন সোনার দামে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা হলো—সুদহার কমলে এবং মার্কিন ডলারের মান দুর্বল হলে তারা সোনা ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ ডিসেম্বর ফেডারেল রিজার্ভ তাদের প্রধান সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেয়।
সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ইয়েও হি চুয়া বলেন, সুদহার কমলে ব্যাংকে আমানত বা স্বল্পমেয়াদি বন্ডে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা রুপার মতো সম্পদ কিনে রাখতে আগ্রহী হন, যা দাম বাড়িয়ে দেয়।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সোনার দাম প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি চার হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। সিঙ্গাপুরের ওসিবিসি ব্যাংকের বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার ওং মনে করেন, সোনার এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব রুপার বাজারেও পড়েছে। তুলনামূলক কম দামের বিকল্প হিসেবে বিনিয়োগকারীরা রুপার দিকে ঝুঁকছেন।
চলতি বছর সোনার দাম ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক সোনা কেনা। একই সময়ে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
রুপার মূল্যবৃদ্ধির পেছনের আরেকটি কারণ হিসেবে প্রযুক্তিশিল্পে এই ধাতুর চাহিদা বৃদ্ধির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক কসমস মারিনাকিস বলেন, রুপা শুধু বিনিয়োগ করার মতো সম্পদ নয়, এটি এখন শিল্পে ব্যবহারযোগ্য ধাতু হিসেবে কাজে লাগছে। সোনা ও তামার চেয়ে রুপা ভালো বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।
এ কারণে এই ধাতু বৈদ্যুতিক গাড়ি ও সৌর প্যানেল তৈরির কাজে লাগছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা বাড়বে। এতে গাড়ির ব্যাটারি তৈরির জন্য আরও রুপার প্রয়োজন পড়বে, ফলে ধাতুটির চাহিদা বেড়ে যাবে। তবে দ্রুত রুপার জোগান বৃদ্ধি করা দুষ্কর। কারণ, যেসব খনি থেকে মূলত সিসা, তামা ও সোনা আহরণ করা হয়, সেসব খনি থেকে উপজাত হিসেবে রুপা পাওয়া যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে রুপার ওপর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেও ধাতুটির দাম বাড়ছে। শুল্কের ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রুপা সঞ্চয় করে রাখা হচ্ছে। এতে বাকি বিশ্বে রুপার সংকট দেখা দিচ্ছে। বিশ্বের তিন ভাগের দুই ভাগ রুপা যুক্তরাষ্ট্র আমদানি করে থাকে। সেগুলো শিল্প ছাড়াও অলংকার ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
শিক্ষক কসমস মারিনাকিস বলেন, রুপার ঘাটতির কারণে যেন শিল্পপণ্য উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সে জন্য ধাতুটির সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন শিল্পমালিকেরা। এর ঝাঁঝে রুপার দাম বাড়ছে। আগামী মাসগুলোতেও ধাতুটির দাম বেশি থাকবে বলে ধারণা করছেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্য করুন

