রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

'স্পেস ম্যানেজমেন্ট' করতে পারলেই ভবন তৈরি সার্থক 

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। যে চিত্রের ছাপ রাজধানী ঢাকার চিত্রে স্পষ্টই দেখা যায়। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে ভবন, সংকুচিত হচ্ছে খোলা জমি।

প্রশ্ন হচ্ছে নিত্যনতুন এসব ভবন, ঘরবাড়ি কতটুকু পরিকল্পিত এবং নিরাপদ? আপনার বাড়ি তৈরিতে কিভাবে পরিকল্পনা করবেন? জমি অনুযায়ী কোন নকশা বেশি নিরাপদ- এসব বিষয় জানতে হলে অবশ্যই একজন বিজ্ঞ স্থপতি (আর্কিটেক্ট) অর্থাৎ যিনি নকশা বা ভবন তৈরি সংক্রান্ত পরামর্শ-দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।

ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত সকল বিষয় নিয়ে সম্প্রতি এনপিবি নিউজের বিশেষ টকশো 'বিল্ড টক বাংলাদেশ'- এ আলোচনা করেছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত স্থপতি মো. মামুনুর রহমান। বাংলাদেশের এই স্থপতি ভবন নির্মাণের খুঁটিনাটি থেকে একদম সমাপ্ত পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

আলোচনায় মামুনুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জমির স্বল্পতা। আর আমরা যদি অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করতেই থাকি তাহলে নিজেদের তো বটেই, দেশের জন্যও ক্ষতির। একজন মানুষ তার সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করলেন, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা নিরাপদ হলো না; এতে সবচেয়ে বেশি ঐ মানুষটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ ভবন নির্মাণে অনেক সচেতন হয়েছে বলে মনে করেন এই স্থপতি। তবে শুধু শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিকল্পিত স্থাপনা তৈরির বিষয়টি একদম তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে পারলেই মানুষ স্বল্প জমিতেই পরিকল্পিত ভবন নির্মাণ করতে পারবে এবং অর্থও বাঁচবে অনেক।

সরকারের নিয়মের মধ্যে থেকে বাড়ি তৈরি করলেই মূলত সুফল পাওয়া যায়। অনেকেই পুরো জমিতেই বাড়ি নির্মাণ করে, এতে প্রথম দিকে লাভবান মনে করলেও আসলে ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় বলেও মনে করেন এই স্থপতি। তিনি বলেন, ভবন বা ঘরবাড়ি নির্মাণের মূল কাজটি হচ্ছে স্পেস ম্যানেজমেন্ট অর্থাৎ ভূমি ব্যবহারের সঠিক পরিকল্পনা। যে যত সুন্দর করে স্পেস ম্যানেজমেন্ট করতে পারবেন, সে তত সুন্দর ও নিরাপদ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন।

শুধুমাত্র ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রেই নয়, একজন স্থপতি যখন নকশা তৈরি করেন তখন ভবন ব্যবহার অর্থাৎ কোথায় কি রাখা যাবে, কোন রং ব্যবহার করা যায়। কোন দিকে জানালা, দরজা বা আনুষাঙ্গিক ডিজাইন বা নতুন নতুন পরিকল্পনা সহজেই যুক্ত করা যায়। এতে ভবন নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে সেই ভবন ব্যবহারেরও একটা পরিকল্পনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

ভবন নির্মাণ কোনো সাময়িক বিষয় নয় জানিয়ে মো. মামুনুর রহমান বলেন, গ্রাহক বা মালিককেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তার ভবন কতটুকু পরিকল্পিত এবং নিরাপদ হতে হবে। এক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি সার্বিক বিষয় নিজেই তদারকি করতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X