

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়ম আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক সহজ হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব নির্দেশনা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় এনে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনা আরও সহজ হবে।
সূত্রের তথ্য অনুসারে, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আয় গ্রহণের প্রমাণপত্রে। এতদিন অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত রপ্তানি নথি দেখাতে হতো। এখন থেকে তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) ও অন্যান্য অনলাইন সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, চুক্তিপত্র, ইনভয়েস এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগই বৈদেশিক আয় গ্রহণের গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। ফলে আপওয়ার্ক, ফাইভার বা অন্যান্য অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অর্থ দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত সেবা রপ্তানির অর্থ ফর্ম-সি ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। এর বেশি অর্থ এলে নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম-সি জমা দিলেই হবে। এতে ছোট ও মাঝারি আয়ের ফ্রিল্যান্সারদের কাগজপত্রের ঝামেলা অনেকটাই কমবে।
এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিদেশে কোনো নোশনাল অ্যাকাউন্টে রপ্তানি আয় জমা রাখা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব অর্থ দেশে আনতে হবে।
ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করতে যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন বৈধ ব্যবসায়িক খরচ পরিশোধ করা সহজ হবে বলেও সূত্রে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সফটওয়্যার, ডেটা প্রসেসিং ও অন্যান্য আইসিটি-সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানিকারকরা তাদের নিট রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে রাখতে পারবেন। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে এই সীমা ৩০ শতাংশ।
এছাড়া, ইআরকিউ হিসাবে রাখা অর্থ বিদেশ ভ্রমণ, সফটওয়্যার লাইসেন্স, ডোমেইন ও হোস্টিং ফি, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, ক্লাউড সেবা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বৈধ ব্যবসায়িক খাতে ব্যয় করা যাবে। ফলে আন্তর্জাতিক সেবা কিনতে বা ব্যবসা পরিচালনার জন্য বারবার ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এই নির্দেশনার ফলে ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় দেশে আনা সহজ হবে, কাগজপত্রের জটিলতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারে নমনীয়তা বাড়বে এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাত আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
ফ্রিল্যান্সাররা যেসব সুবিধা পাবেন -২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় ফর্ম-সি ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। -প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ইনভয়েস, ই-মেইলসহ ডিজিটাল ডকুমেন্টই আয় গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। -প্রতি লেনদেনে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা যাবে। -যোগ্য ফ্রিল্যান্সাররা ডুয়াল-কারেন্সি ফ্রিল্যান্সার কার্ড পাবেন।
এছাড়া, আইসিটি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা নিট আয়ের ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকরা ৩০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। সেই মুদ্রা সফটওয়্যার, ডোমেইন, হোস্টিং, সার্ভার, ক্লাউড সেবা, বিদেশ ভ্রমণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে।