

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামী ভাবধারায় পরিচালিত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) নিয়োগ নিয়ে চলছিল নাটকীয়তা। এর সমাপ্তি ঘটালো নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পক্ষ থেকে বর্তমান এমডি হাবিবুর রহমানের পুনর্নিয়োগের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের-২ (বিআরপিডি) এর পরিচালক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংককে নতুন প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। চিঠির শুরুতেই হাবিবুর রহমানের পুনর্নিয়োগে অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে চলতি মাসের ৮ তারিখে বর্তমান এমডির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয়।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে বেশির ভাগ সদস্যের মতামত নিয়ে এমডির পুনর্নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১৫ জানুয়ারি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল আজিজের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (২) চলতি দায়িত্বে থাকা পরিচালক জেবুন্নেসা করিমার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয় ‘গত ৭ জানুয়ারি আপনাদের ব্যাংকে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪২১তম সভায় মো. হাবিবুর রহমানকে এমডি হিসেবে পুনর্নিয়োগের বিষয়ে ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে, যা ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের একমত হয়ে বা সুপার মেজরিটি সদস্যদের সম্মতিক্রমে এমডি নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হলো।’
জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের পর্ষদ সভায় ১৬ জন পরিচালকের মধ্যে ছয়জন পরিচালক হাবিবুর রহমানের নিয়োগের বিষয়ে নেতিবাচক মত দেন। এ বিষয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুপার মেজোরিটি না হলে অর্থাৎ অন্তত ১১ জন একমত না হলে এই নিয়োগ কার্যকর হবে না। আমরা এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছি ব্যাংকটিকে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিআরপিডি মো. হাবিবুর রহমানকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি পাঠায়। এতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালিত পরিদর্শনে তার বিরুদ্ধে যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে দায়িত্বপালনকালে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ইউনিয়ন ব্যাংকে থাকাকালে করা অনিয়ম। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিত্তিক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণ বিতরণে সংঘটিত অনিয়মে হাবিবুর রহমানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৩০টি প্রতিষ্ঠানে মোট ২ হাজার ৬৪১ কোটি টাকার ঋণ ক্ষতিজনক হিসেবে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশ এস আলম-সংশ্লিষ্ট অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন ব্যাংকের বিনিয়োগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হাবিবুর রহমান ঋণমঞ্জুরিপত্রের শর্ত ভেঙে এবং নিবন্ধিত বন্ধক ছাড়াই ঋণ অনুমোদনের সুপারিশ করেন। একাধিক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ভূমি পরিদর্শন প্রতিবেদন, নিবন্ধিত বন্ধকি দলিল, রেজিস্টার্ড পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও প্রয়োজনীয় খতিয়ান ছাড়াই ঋণ অনুমোদনের নজির পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। তার ব্যক্তিগত নাম্বারে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন এবং মেসেজ করলেও কোনো উত্তর দেননি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘এই নিয়োগের বিষয়ে বিআরপিডি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই চূড়ান্ত। এর বাইরে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক আর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। নতুন কাউকে নিয়োগের জন্য প্রস্তাব করলে সেটা বিবেচনা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।’
প্রসঙ্গত, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগের জন্য বহু নাটকীয়তার জন্ম দিয়েছেন হাবিবুর রহমান। ফ্যাসিস্ট আমলে ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন নানান অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যূত করেন। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে আবারো তদবির করে এমডি পদে নিয়োগ পান হাবিবুর রহমান।
মন্তব্য করুন

