শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে একীভূত হচ্ছে পাঁচ ব্যাংক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:০৯ এএম
expand
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে একীভূত হচ্ছে পাঁচ ব্যাংক

আর্থিক সংকটে পড়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একত্রিত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর জন্য খুব শিগগিরই প্রতিটি ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা পুরো একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবেন। প্রশাসক দলের নেতৃত্ব দেবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যাকে সহায়তা করবেন আরও চারজন কর্মকর্তা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচ প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত হবে নতুন ব্যাংক। আলোচনায় উঠে এসেছে, এর সম্ভাব্য নাম হতে পারে “ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক”। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই ব্যাংকের জন্য সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন, আর আমানত বীমা ট্রাস্ট থেকে আসবে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। এ সময় ব্যাংকগুলোর বর্তমান পর্ষদ ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এবং প্রশাসক দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হবে না; শীর্ষ পর্যায়ের পরিবর্তন ছাড়া অন্যদের চাকরি বজায় থাকবে, যদিও বেতনে সাময়িক কাটছাঁট হতে পারে।

দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের কারণে পাঁচ ব্যাংকই গুরুতর সংকটে পড়ে। আন্তর্জাতিক অডিট ফার্মের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই ব্যাংকগুলোর গড়ে প্রায় ৭৭ শতাংশ ঋণই অনাদায়ী। ইউনিয়ন ব্যাংকের খেলাপি হার সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৯৮ শতাংশ। একই সঙ্গে এসআইবিএল ও এক্সিম ব্যাংকও উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ চালিয়ে যাবে। তবে নতুন ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংককে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আনতে ১০ বছরের একটি রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর ৭৭৯ শাখা, প্রায় ৭০০ উপশাখা, ৫০০ এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র ও এক হাজার এটিএম নতুন ব্যাংকের অধীনে আসবে। এতে কর্মরত প্রায় ১৬ হাজার জনবলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন, তবে প্রশাসক নিয়োগের পর ভবিষ্যৎ কাঠামো কী হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তিনি জানান, তারা ব্যাংক বাঁচাতে চেষ্টা করলেও ঋণ আদায় কার্যত ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষত বড় একটি গ্রুপের ঋণ ফেরত না দেওয়ার কারণে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন