

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্ববাজারে সোনার দামে ধারাবাহিকভাবে পতন ঘটছে। ২০২০ সালের পর মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সোনার দামে সবচেয়ে বড় একদিনের দরপতনের পর বুধবারও (২২ অক্টোবর) এর মূল্য আরও কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে সোনার বাজারে নতুন করে বিক্রয়চাপ তৈরি হয়েছে, যা দরপতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ২.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,০১৭.২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে দিনের শুরুতে সোনার দাম ৪,১৬১.১৭ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
এছাড়া, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য ইউএস গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১.৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্সে ৪,০৩২.৮০ ডলার।
মার্কিন ডলার সূচক (DXY) ০.২ শতাংশ বেড়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে সোনার প্রতি আগ্রহ কমে যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবার সোনা একদিনে ৫.৩ শতাংশ দর হারিয়েছিল, যদিও এর আগের সেশনে তা রেকর্ড ৪,৩৮১.২১ ডলারে পৌঁছেছিল।
বছরের শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত সোনার দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ। এর পেছনে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা এবং শক্তিশালী ETF (এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড) বিনিয়োগ।
বিনিয়োগকারীরা এখন তাকিয়ে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) প্রতিবেদন প্রকাশের দিকে, যা শুক্রবার আসার কথা। এই তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রয়টার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আগামী সপ্তাহে এবং ডিসেম্বর মাসে পরপর দুই দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদহার কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কম সুদের হার সাধারণত সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, কারণ এটি এক ধরনের অ-উৎপাদনশীল সম্পদ, যা কম সুদের হারে বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে: স্পট সিলভারের দাম ১.৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্সে ৪৭.৮৪ ডলার (মঙ্গলবার কমেছিল ৭.১ শতাংশ), প্লাটিনামের দাম ১.৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১,৫৩০.৩৫ ডলার, প্যালাডিয়ামের দাম ১.২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১,৩৯১ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন অর্থনৈতিক ডেটা এবং ফেডের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে মূল্যবান ধাতুর বাজারে আগামী দিনগুলোতে আরও অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
মন্তব্য করুন
