শুক্রবার
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাই-টেক পার্কের প্রতিষ্ঠানের বিদেশে ফি পাঠানো আরো সহজ হলো

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

হাই-টেক পার্কে পরিচালিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি দায় পরিশোধের সুযোগ আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফি বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবের পাশাপাশি টাকার হিসাব (Taka Account) থেকেও বিদেশে পাঠানো যাবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (BHTPA) আগাম অনুমোদন নিতে হবে না।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ (FEPD-1) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করেছে। এতে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (AD) ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে হাই-টেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি প্রযুক্তি ও কারিগরি সেবার বিল পরিশোধে প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমবে। এতদিন নির্ধারিত সীমার মধ্যে এসব ব্যয় মেটাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার (FC) হিসাব থেকে অর্থ পাঠানোর সুযোগ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে একই সুবিধা টাকার হিসাব থেকেও নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো।

তবে এই সুবিধা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকবে। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে আমদানি করা যন্ত্রপাতির মূল্যের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফি বিদেশে পাঠানো যাবে। আর চলমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগের বছরের আয়কর রিটার্নে ঘোষিত বিক্রির সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত এসব খাতে অর্থ পাঠানো যাবে।

অর্থাৎ, কোনো নতুন প্রকল্পে আমদানি করা যন্ত্রপাতির মূল্য যদি ১০০ কোটি টাকা হয়, তাহলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ এসব ফি বিদেশে পাঠানো যাবে। একইভাবে, কোনো চলমান প্রতিষ্ঠানের আগের বছরের কর রিটার্নে ঘোষিত বিক্রি ৫০ কোটি টাকা হলে এ ক্ষেত্রে সীমা হবে ৩ কোটি টাকা।

তবে টাকা দিয়ে এসব বৈদেশিক দায় পরিশোধের আগে AD ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রায় কোনো আয় বা অন্য কোনো উৎস নেই। একই সঙ্গে প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট যথাযথভাবে কেটে পরিশোধ করা হয়েছে কি না, সেটিও ব্যাংককে যাচাই করতে হবে।

নির্ধারিত ৬ শতাংশের বেশি অর্থ বিদেশে পাঠাতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (BHTPA) নির্দিষ্ট অনুমোদন নিতে হবে। একইভাবে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নলেজ ও টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফি ছাড়া অন্য কোনো অনুরূপ বৈধ খাতে বিদেশে অর্থ পাঠাতেও BHTPA-এর আগাম অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এসব লেনদেনের ক্ষেত্রে AD ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের KYC, AML/CFT যাচাই এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও BHTPA-কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর বাধ্যবাধকতাও থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে হাই-টেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি প্রযুক্তি, কারিগরি সহায়তা ও সংশ্লিষ্ট সেবার মূল্য পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবের পরিবর্তে নির্ধারিত শর্তে টাকার হিসাব ব্যবহার করে এসব দায় পরিশোধের সুযোগ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ পরিশোধের বিকল্প বাড়ল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সার্কুলার তালিকায়ও সাম্প্রতিক বৈদেশিক মুদ্রা নীতির বিভিন্ন নির্দেশনার মধ্যে হাই-টেক পার্ক ও অন্যান্য বিশেষ অঞ্চলের বৈদেশিক লেনদেনসংক্রান্ত বিধানগুলো আলাদাভাবে রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank