সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের বিদ্যুৎ কিনতে এবার দিতে হবে ‘সেটেলমেন্ট চার্জ’

এনপিবি নিউজ
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন একটি চার্জ। আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি করে ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি’ (এসএনএ) চার্জ নিতে চায় ভারত। পরিমাণে ছোট হলেও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির কারণে দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে।

এই চার্জ কার্যকরের জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুক্তি সইয়ের বিষয়ে মতামত চেয়ে গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগের আশঙ্কা, চুক্তি সম্পন্ন করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

কেন নেওয়া হবে এই চার্জ

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য শুরুতে প্রতি ইউনিটে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে পিডিবির আবেদনের পর তা অর্ধেক কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।

ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচি তৈরি, মিটার থেকে ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় এবং গ্রিড পরিচালনার মতো কাজের ব্যয় মেটাতেই এই চার্জ নেওয়া হবে।

ভারতের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে

বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। এসব উৎস মিলিয়ে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এনভিভিএন ও পিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতের আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা কেন্দ্র থেকেও ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতেই এ ধরনের চার্জের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এই বিদ্যুতের জন্য আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।

বছরে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় শুধু বিদ্যুতের মূল দামে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যুক্ত হয় হুইলিং বা সঞ্চালন চার্জ। এবার নতুন করে যোগ হতে যাচ্ছে এসএনএ চার্জ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্প—এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। এর মূল দাম বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ কিনতে। ৮০৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়া হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। পিটিসি ইন্ডিয়ার বিদ্যুতে ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের বিদ্যুতে ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য হুইলিং চার্জ বাবদ আলাদাভাবে আরও ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে ওই অর্থবছরে চার উৎস থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পেছনে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

নতুন এসএনএ চার্জ এই ব্যয়ের সঙ্গে আরও একটি খরচ যোগ করবে। প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হিসাবে হারটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও আমদানির পরিমাণ বড় হওয়ায় মোট ব্যয়ের পরিমাণও বাড়বে।

দেশে গ্যাসের সংকটের কারণে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসএনএ চার্জ বাবদ বাংলাদেশের ব্যয়ও বাড়বে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন