শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে কার্যকর নীতি ও মানসিকতার পরিবর্তনের তাগিদ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে সৃজনশীল অর্থনীতিকে (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) গড়ে তুলতে শুধু বাজেট বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তন, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১১ জুলাই) পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ফেসবুক লাইভে অনুষ্ঠিত ‘আজকের অ্যাজেন্ডা’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা বলেন তারা। ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: স্লোগান অর আনট্যাপড পটেনশিয়াল’ শীর্ষক এ আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য জিডিপিতে এ খাতের অবদান বাড়ানো, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চলচ্চিত্র, সংগীত, প্রকাশনা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ডিজাইনসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করা।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সৃজনশীল খাতগুলো প্রতিভানির্ভর হলেও এগুলোকে অর্থনৈতিক খাত হিসেবে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নীতিগত সহায়তার পরিবর্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও ভালোবাসার ওপর নির্ভর করেই অধিকাংশ ক্ষেত্র এগিয়েছে। একই সঙ্গে করনীতি, কপিরাইট, প্রকাশনা ও ওটিটি-সংক্রান্ত নীতিমালার সীমাবদ্ধতাও এ খাতের বিকাশে বাধা হয়ে রয়েছে।

চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উদ্যোক্তা তানিম নূর বলেন, সৃজনশীল শিল্পের জন্য পৃথক করনীতি প্রণয়ন করা হলে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র শিল্পে কর অব্যাহতি দিলে দেশীয় সিনেমায় নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে সাধারণ করপোরেট কাঠামোর আওতায় কর দিচ্ছে, অথচ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলো একই ধরনের কর কাঠামোর মধ্যে নেই। এতে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর ও লাইসেন্সিং নীতির সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, দেশে সৃজনশীল প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সেই প্রতিভাকে বিকাশ ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম গড়ে ওঠেনি। এ জন্য সরকারকে কাঠামোগত সংস্কার এবং শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীবাহিনীর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

নাট্যকার ও তারুয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল বলেন, নাটক ও শিল্পকলাকে এখনো অর্থনৈতিক মূল্যসম্পন্ন খাত হিসেবে দেখা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি ব্যক্তিগত ভালোবাসার জায়গা থেকে পরিচালিত হয়। বিনা পারিশ্রমিকের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় একটি পেশাদার ও টেকসই শিল্পখাত গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রকাশনা শিল্প দেশের অন্যতম অবহেলিত খাত। জাতীয় গ্রন্থনীতি হালনাগাদ না হওয়া এবং কপিরাইট আইনের দুর্বল প্রয়োগের কারণে প্রকাশনা শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডিজিটাল ও মুদ্রণ পাইরেসিকেও তিনি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের (সিএইচপি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম বলেন, হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে মান সনদ, কমপ্লায়েন্স এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর নীতি, টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব। করনীতি, রয়্যালটি বণ্টন, কপিরাইট সুরক্ষা ও লাইসেন্সিংকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের আগ্রহ ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। এখন টেকসই ফলাফল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করে সৃজনশীল অর্থনীতির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup