বুধবার
১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রীদের মাসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে ‘গোল ফর গুড’ ক্যাম্পেইন শুরু

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই এক অন্য রকম উৎসব। পতাকায় রঙিন হয়ে ওঠে বাড়ির ছাদ, অলিগলি আর চায়ের দোকান। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে ঘিরে তর্ক, উল্লাস, আবেগ আর অপেক্ষায় মেতে ওঠে প্রায় পুরো দেশ। এই ফুটবল উন্মাদনাকেই এবার কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগে রূপ দিচ্ছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ।

‘গোল ফর গুড’ নামে নতুন একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে সংস্থাটি। ক্যাম্পেইনের ঘোষণা অনুযায়ী, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল যতগুলো গোল করবে, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ততটি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন করবে। অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত এলাকার স্কুলপড়ুয়া কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশ বলছে, দেশের অনেক স্কুলেই এখনো মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কিশোরীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রান্তিক পর্যায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিনের সহজলভ্যতা নেই, পর্যাপ্ত গোপনীয়তা নেই, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও অনেক জায়গায় অপ্রতুল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সামাজিক সংকোচ ও নানা ভুল ধারণা। ফলে মাসিকের সময় অনেক কিশোরী অস্বস্তি, অনিশ্চয়তা ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। অনেকের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া ব্যাহত হয়। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনো গড়ে প্রতি তিনজন কিশোরীর একজন মাসে তিন দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এখনও প্রতি ১০ জনে ৭ জন কিশোরী তাদের প্রথম মাসিকের আগে এ বিষয়ে সচেতন থাকে না।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কমিউনিকেশনস কো-অর্ডিনেটর প্লাবন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বাংলাদেশে ফুটবল মানুষকে এক অসাধারণ আবেগে ও আনন্দে যুক্ত করে। গোল ফর গুডের মাধ্যমে আমরা সেই ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসকে কিশোরীদের জন্য বাস্তব আনন্দে রূপ দিতে চাই। স্কুলে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্যভাবে মাসিক স্বাস্থ্য পণ্য পাওয়ার সুযোগ তাদের প্রাপ্য। এবার আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রতিটি গোল শুধু মাঠের স্কোরবোর্ডে যোগ হবে না, এটি কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস, অন্তর্ভুক্তি ও উন্নত মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দিকেও একেকটি পদক্ষেপ হয়ে উঠবে।”

ক্যাম্পেইনটি চলবে পুরো বিশ্বকাপজুড়ে। টুর্নামেন্ট শেষে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মোট গোলসংখ্যা হিসাব করে কতটি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে, তা ঘোষণা করবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। স্কুল নির্বাচন করা হবে ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশ, প্রয়োজন এবং কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায়।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, “মাসিক স্বাস্থ্য আমাদের দেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটি কিশোরীদের অধিকার, শিক্ষা, সুস্থতা ও মর্যাদার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। গোলফরগুড আমাদের এমন একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে জাতীয় আনন্দের একটি মুহূর্তকে ব্যবহার করে আমরা কিশোরীদের দৈনন্দিন বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনতে চাই। আমরা আশা করি, এই ক্যাম্পেইন আরও বেশি মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে কিশোরীদের পাশে দাঁড়াতে এবং পিরিয়ড-বান্ধব স্কুলে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করবে।”

স্কুল, কমিউনিটি ও জনপরিসরে অন্তর্ভুক্তিমূলক, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও টেকসই ওয়াশ সেবা নিশ্চিত করার বৃহত্তর অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই গোলফরগুড ক্যাম্পেইন হাতে নিয়েছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। সংস্থাটি সবার জন্য, সবসময়, সর্বত্র নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন