

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঠেলে দিয়েছে সোনার বাজারে। এর ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি সোনার দাম ৪ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
১৯৭০–এর দশকের পর এটিই সোনার দামের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে চলমান সরকারি শাটডাউন অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশে বিলম্ব ঘটিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার জনপ্রিয়তা
সোনাকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘সেফ হেভেন অ্যাসেট’ বা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। কারণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা বা বাজারের মন্দার সময়ও সোনার দাম সাধারণত স্থিতিশীল থাকে কিংবা বাড়ে।
প্রযুক্তি বাজারে ঝুঁকির সতর্কতা
এদিকে, যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই) সতর্ক করেছে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠেছে, যা আর্থিক বাজারে বড় ধরনের “সংশোধনের ঝুঁকি” তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উত্থানে শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বাজারমূল্যে ১০ শতাংশ বা তার বেশি পতন ঘটলে সেটিকে ‘কারেকশন’ ধরা হয়।
রেকর্ড ভাঙা সোনার দাম
বুধবার বিকেলে এশিয়ার বাজারে স্পট গোল্ডের দাম বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩৬ ডলারে পৌঁছায়। আগের দিনও স্পট গোল্ড ফিউচারের মূল্য প্রায় একই পর্যায়ে ছিল।
ওসিবিসি ব্যাংকের রেট স্ট্র্যাটেজিস্ট ক্রিস্টোফার ওং জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের অচলাবস্থা সোনার দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শাটডাউনের সময়ও সোনার দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছিল। তবে তিনি সতর্ক করেছেন—শাটডাউন দ্রুত শেষ হলে দাম কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে সিঙ্গাপুরের ইউওবি ব্যাংকের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হেং কুন হাউ বলেন, সোনার এই নজিরবিহীন উত্থান বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। তার মতে, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা ও খুচরা বিনিয়োগকারীদের ক্রয় আগ্রহই এই বৃদ্ধির মূল কারণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা কেনা বাড়ছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতার বাইরেও সোনার দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কৌশলগত সোনা কেনা। তারা ডলার ও মার্কিন ট্রেজারির ওপর নির্ভরতা কমাতে সোনার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে।
২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে এক হাজার টনের বেশি সোনা কিনছে, যেখানে ২০১০–২০২১ সালের মধ্যে গড় ক্রয় ছিল ৪৮১ টন। গত বছর সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল পোল্যান্ড, তুরস্ক, ভারত, আজারবাইজান ও চীন।
ইটিএফে রেকর্ড বিনিয়োগ
সব বিনিয়োগকারী সরাসরি সোনা কেনেন না। অনেকে স্বর্ণ-নির্ভর এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগ করেন। বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদের তথ্যমতে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ইটিএফে ৬৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে—যা রেকর্ড।
মূল্যবান ধাতু বিক্রেতা সিলভার বুলিয়নের প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগর গ্রেগারসেন বলেন, গত এক বছরে তাদের গ্রাহকসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। তার মতে, স্বল্পমেয়াদে দামে ওঠানামা হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী পাঁচ বছর সোনার বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন
