

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনা বাড়ায় সুসংহত হচ্ছে দেশের রিজার্ভ। চলতি মে মাসের প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনায় রিজার্ভ সংকট হচ্ছে না। বৃহস্পতিবারও ১০ কোটি ডলার কেনায় রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সপ্তাহ ঘুরলেই ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের বৃহত্তম উৎসব কোরবানির ঈদ বা ঈদুল আজহা। এ ঈদকে সামনে রেখে বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের আয় পাঠাচ্ছেন দেশে থাকা স্বজনদের জন্য। এর প্রভাবে চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে ২৬২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ প্রায় ৩১ হাজার ৯৮৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এ সময়ে গড়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে ১৩ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে এ তথ্য জানা যায়। এছাড়া, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম ২০ দিনে দেশে এসেছিল ১৮৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, শুধু ২০ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এদিকে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২০ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।
এদিকে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার বাকি আরো ১০ দিন। এরমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৬২৩ কোটি ডলার কিনেছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো শক্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে দেশে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। এ অবস্থায় ডলারের দাম যাতে অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায় এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হচ্ছে।
তবে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থপাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর রপ্তানি ও প্রবাসী আয়— উভয়ই বেশ বেড়েছে। ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। জোগান বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স আসে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।
এছাড়া ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার এবং এপ্রিল মাসে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় উত্থান ঘটেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে প্রবাসী আয়। গত এপ্রিল মাসে দেশে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। আর মার্চ মাসে আসে রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
এর আগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে, ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ডলার, যা চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।