

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের রেমিট্যান্সের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিলের ৭ তারিখে এসেছে ১৬৩ মিলিয়ন বা ১৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সবমিলিয়ে চলতি মাসের প্রথম ৭ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ৮২ কোটি ডলারের বেশি। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র মতে, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সাত দিনে এসেছে ৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার প্রবাসী আয়। আগের বছর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে এসেছিল ৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার সমমূল্যের রেমিট্যান্স।
প্রথম সপ্তাহের রেমিট্যান্সের ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে রেমিট্যান্স প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্স নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু দেশপ্রেমিক প্রবাসীরা তাদের সর্বস্ব উজার করে ঝুঁকি নিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সহযোগিতা করছেন।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র মতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৭০৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ২৪২ কোটি ডলার।
এর আগে গেল মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পেয়েছিল বাংলাদেশ। সদ্যবিদায়ী মার্চের পুরো সময়ে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা পৌনে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্বাধীনতার পর এটিই দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, মার্চের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫ হাজার ডলার। যা আগের মাস ফেব্রুয়ারির চেয়ে প্রায় ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেশি। আর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে (মার্চ ২০২৫) ৪৬ কোটি ডলার বেশি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স আসে ৩০২ কোটি ডলার আর গত বছরের মার্চে এসেছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে একক কোনো মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের (২০২৫ সালের) মার্চে। ওই মাসটিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার (৩.২৯ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে। ওই মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার (প্রায় ৩.২৩ বিলিয়ন)। আর তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত জানুয়ারিতে, যার পরিমাণ ছিল ৩১৭ কোটি বা ৩.১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চে ঈদ ঘিরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, এটি স্বাভাবিক একটি প্রবণতা। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে এখনো কাজের সুযোগ বজায় আছে এবং বেকারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও খুব বেশি না বাড়ায় প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সামনের মাসগুলোতে এই প্রবাহ কিছুটা কমতে পারে।
মন্তব্য করুন