শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবেই হোক জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় করব: জামায়াত আমির

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

যেভাবেই হোক জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় করে ছাড়বেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয়। দেশের যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই আমরা কথা বলব।’

সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সরকার কোরআনের আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে আইন পাস করেছে, যা সুস্পষ্টভাবে কোরআনবিরোধী। সরকার ক্ষমতায় আসার আগে অনির্বাচিত কাউকে ক্ষমতায় বসাবে না বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখন তার বিপরীত কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে।’

‘স্বৈরাচার ফিরে আসবে’, এমন কথা বলে তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, তখন অনাহারে অনেক মানুষ মারা গিয়েছিল। রাস্তায় লাশ পড়ে থাকত। দেশ সেই ধরনের পরিস্থিতি পার করে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালে যখন দেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, তখন বিএনপি বা জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল না; বরং ক্ষমতায় ছিল শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেই দুর্ভিক্ষ ও সাধারণ মানুষের চরম দুর্গতি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি কেন তখন রাজনৈতিক গুম-খুন ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল?’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ওই সময়ের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতায় এসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প খাতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

প্রয়োজনে অন্য খাতে কাটছাঁট করে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ।’ চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিতে লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণ আমাদের কাছে বলে, আপনাদের কাছেও নিশ্চয় বলে, দুর্নীতির মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা যদি আমরা লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে যত পরিকল্পনাই আমরা নিই, কোনো পরিকল্পনাই আসলে সফলতার মুখ দেখবে না।’

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেছিলেন, চার-পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা আমার কথা নয়, এটা মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের কথা।’

দেশে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প খাতে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছে।

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জামায়াত আমির। ওই সময় জামায়াতের সমাবেশে হামলা ও দলটির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমান আন্দোলনের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলন করা হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, একদিন জনগণের দাবি পূরণ হবেই।

সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, ইফসুর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হুমায়ুন কবির, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম খান এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম।

আরও উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, বায়তুল মাল সেক্রেটারি আহসান হাবিবুল্লাহ দেলোয়ার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ তালুকদার, ড. আতাউর রহমান, ওবায়দুর রহমান কোরাইশী, শহর আমির মিজানুর রহমান চৌধুরী, সদর আমির ইকবাল হোসাইন বাদল এবং জেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম খানসহ অনেকে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank