

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


‘প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তাজুড়েই সুনসান নীরবতা। যেন বহু বছরের পরিত্যক্ত জনপদ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে বড় গর্ত খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোথাও বিটুমিন ইটের খোয়া উঠে এমন অবস্থা হয়েছে, যেখানে রাস্তার চিহ্ন বলতে নেই। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
বিগত দিনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দিলেও প্রায় দেড় যুগ ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন মির্জাপুরের গোড়াই ও সখিপুরের মানুষ।’ হতাশা নিয়েই এসব কথা বলছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষক।
সরেজমিনে দেখা যায়,গোড়াই থেকে সখিপুর পর্যন্ত সড়কটির প্রায় অধিকাংশ স্থানেই পিচ উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন কোনো সংস্কারকাজ না হওয়ায় গত ভারী বৃষ্টিতে বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়,সড়কটিতে স্কুল-কলেজ,মাদরাসা, কারখানা, বহুসংখ্যক ইটভাটা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।মূলত প্রতিদিন সড়কটিতে ভারী যানবাহনের চাপ ও রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় সড়কের এই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে কারন হিসেবে মানুষ মনে করছে সখিপুর থেকে ওভার লোড বাঁশের গাড়ি ও শুকনো মৌসুমে বেপরোয়া মাটির গাড়ি চলাচলের কারনেই রাস্তার এ-ই বেহাল দশা।যদিও এগুলো অবৈধ,তবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলে এই গাড়িগুলো।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই সড়কটি মেরামতের দাবি জানানো হলেও কর্মকর্তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে যাতায়াতের ভোগান্তিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধস নেমেছে। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনে বিলম্ব ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘কষ্টের শেষ নাই আমাগো। কেউ অসুস্থ হলিই তাকে নিয়ে এ পথে যাতায়াত করার মতো উপায় নেই। সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একসময় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করত। এখন রাত তো দূরের কথা, দিনের আলোতে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও কষ্ট হয়।’
স্থানীয়রা আরোও বলেন, ‘সড়কে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ড্রেন নেই। বৃষ্টি হলেই রাস্তা তলিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত মালামালের লোড নিয়ে গাড়ি চলাচলের ফলে রাস্তাটি বেশি ক্ষতি হয়েছে।’
মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন,বিষয়টি আমি জানি।অতিদ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।